জনগণের ওপর অধিষ্ঠিত শাসক একজন দায়িত্বশীল, তাকে তার প্রজাসাধারণ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। পুরুষ তার পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, তাকে তার পরিবার সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। নারী তার স্বামীর সংসার ও সন্তানের জন্য দায়িত্বশীল, তাকে তাদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। আর ভৃত্য তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকে সে সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
এই হাদীসে প্রতিটি মানুষের দায়িত্বের পরিধি চিহ্নিত করা হয়েছে। পুরুষের দায়িত্ব তো সর্বজনবিদিত, যা এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু নারীর দায়িত্ব কী? এ বিষয়ে একজন চিন্তাবিদ বলেছেন— নারীর ওপর রয়েছে অত্যন্ত গুরুভার দায়িত্ব। সন্তানদের বলিষ্ঠ ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার পাশাপাশি তিনি হলেন গৃহকোণে ভালোবাসার উৎস এবং মমতার ঝরনাধারা। ঘরে এই স্নিগ্ধতার প্রবাহ ধরে রাখার প্রধান কারিগরও তিনি।
নারীরা কেবল তাদের স্বামী ও সন্তানদের জন্য মমতা ও করুণার অফুরন্ত ভাণ্ডারই নন, বরং তারা হলেন সেই চালিকাশক্তি যার কারণে পরিবারের এই আত্মিক বন্ধন টিকে থাকে। তারা পুরো পরিবারকে উষ্ণতা, আলো আর সুখ যোগান। একজন পুরুষ তখনই প্রকৃত সুখী হয়, যখন সে তার স্ত্রীর ওষ্ঠাধরে সুখের হাসির ঝিলিক দেখে এবং স্ত্রীর দুচোখে গভীর মমতা ও প্রশান্তির ছায়া খুঁজে পায়। এটি নারীর ওপর অর্পিত এক মহান দায়িত্ব; কেননা এই আবেগীয় ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে পুরুষ অপেক্ষা নারীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অনেক বেশি।
বাস্তবতা হলো, প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্ত্রী হলো পরিবারের প্রধান অবলম্বন। স্বামীর ভুলত্রুটি সংশোধন করা, তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং তার মন্দ আচরণগুলো ধৈর্য ও কৌশলের সাথে শুধরে দেওয়াও নারীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। অনেক সময় স্বামীকে সঠিক পথে আনা সাময়িকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে; হয়তো স্বামী তার উপার্জিত অর্থ নিজ বিলাসিতায় অপচয় করে—এমন সংকটে নারীর বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, সাহস ও বিচক্ষণতা ফুটে ওঠে। তাঁকে ধৈর্য ও পরম যত্নে স্বামীকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে হয় এবং নিজের পরিবারকে অনাগত বিপদ থেকে রক্ষা করতে হয়। কিন্তু নারী যদি পাল্টা জেদ, প্রতিশোধ কিংবা ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে পড়ে, তবে পুরো পরিবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।
একদল স্থূলবুদ্ধির মানুষ মনে করে যে, ঘরের কাজ তো খুব সহজ, এর জন্য নারীর সারা দিন ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। এমন ধারণা চরম মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। সন্তানদের লালন-পালনের
