জীবনকে পরিচালিত করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“নিশ্চয়ই ইসলামের কিছু চিহ্ন ও আলোকবর্তিকা রয়েছে, যেমন থাকে রাস্তার নির্দেশক চিহ্ন। তার মধ্যে অন্যতম হলো:
১. আল্লাহর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা।
২. নামাজ কায়েম করা।
৩. যাকাত প্রদান করা।
৪. রমজানের রোজা রাখা।
৫. বায়তুল্লাহর হজ করা।
৬. সৎ কাজের আদেশ দেওয়া।
৭. অসৎ কাজে বাধা দেওয়া।
৮. ঘরে প্রবেশকালে পরিবারকে সালাম দেওয়া।
৯. কোনো জনপদ বা মজলিস অতিক্রমকালে সালাম দেওয়া এবং সেখান থেকে বিদায়কালেও সালাম দেওয়া।
যে ব্যক্তি এর কোনো একটি ছেড়ে দিল, সে ইসলামের একটি অংশ ত্যাগ করল। আর যে সব কটি ছেড়ে দিল, সে ইসলামের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল।” [হাকীম; সনদ সহীহ]
এই হাদীসটি ইসলামের মৌলিক চিহ্ন ও নিদর্শনসমূহকে চিহ্নিত করেছে। এখানে শুধু ইবাদতের বিষয়ই নয়, বরং সামাজিক আচরণ যেমন সালামের প্রচলনকেও ইসলামের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম ধর্ম শুধু ব্যক্তি ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্কের নাম নয়, বরং এটি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক আচার-আচরণ ও নৈতিক মূল্যবোধেরও একটি পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
সালামের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া, অপরিচিত স্থানে সালামের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করা—এসবই একজন মুসলিমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সালাম শুধু একটি অভিবাদন নয়, এটি শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক।
স্বামী ও স্ত্রীর দায়িত্বশীলতা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উদ্দেশে বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যাতে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাবের শক্তিশালী ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে।” [সূরাহ আত-তাহরীম: ৬]
এই আয়াতে শুধু নিজের নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার দায়িত্বও প্রতিটি মুমিনের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। পরিবার বলতে এখানে স্ত্রী-সন্তানসহ সকলের কথা বলা হয়েছে। তাদেরকে শুধু দুনিয়ার বিপদ থেকে নয়, আখিরাতের অনন্ত শাস্তি থেকেও রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দায়িত্বশীলতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:
“জেনে রেখো, তোমরা প্রত্যেকেই একেকজন রাখাল (দায়িত্বশীল), আর তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।
