আসুন আমরা স্বীকার করি—একজন নেককার ও নিষ্ঠাবান স্ত্রী কোনো পার্থিব সম্পদ দিয়ে পরিমাপযোগ্য নন। তিনি আমাদের যা সেবা দেন, তার তুলনায় আমরা তাঁকে শতভাগও দিতে পারি না। তাই আমাদের উচিত তাঁকে ভালোবাসা, মমতা আর অকুণ্ঠ শ্রদ্ধায় আগলে রাখা।
নারী নেত্রীদের একটি আক্ষেপ
জনৈক নারী অধিকারকর্মী একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন—
“যখন দেখি একজন নারী ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠে পরিবারের নাস্তা বানাচ্ছে, বাচ্চাদের পোশাক পরাচ্ছে, দুপুরের খাবার তৈরি করছে, তাদের পড়ালেখা তদারকি করছে, থালা-বাসন মাজছে, সেলাই করছে—এত কিছুর পরও যখন তাঁর স্বামী আয়করের ফর্মে স্ত্রীর নামের পাশে পেশার জায়গায় লেখে ‘গৃহিণী’ (বেকার/কোনো কাজ করেন না), তখন শ্রম মন্ত্রণালয়টিকেই আমাদের বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে!”
স্ত্রীদের প্রতি একটি বিশেষ নিবেদন
তবে এই গবেষণা পড়ে স্ত্রীদের মনে যেন অহংকার না জাগে, তাই তাঁদের কানে কানে একটি কথা বলে রাখা ভালো—আপনি যা করছেন তা কেবল আপনার স্বামীর জন্য নয়; বরং নিজের জন্য, জাতির জন্য এবং সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সন্তানরা কেবল আপনার স্বামীর সম্পদ নয়, তারা আপনারও ভবিষ্যৎ। আপনার স্বামীও বাইরের কঠিন জগতে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত থাকেন, তাও আপনার ত্যাগের চেয়ে কম নয়। যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মনে রাখেন যে—বিবাহ কেবল একটি আইনি চুক্তি নয়, বরং এটি একটি মানবিক ও ধর্মীয় পবিত্র মহান দায়িত্ব, তবে জীবন হবে শান্তিময়।
বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর সম্মতি
ইসলাম নারী-পুরুষের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছে পারস্পরিক সম্মতি ও সদিচ্ছার ওপর। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবী করীম (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন:
“নারীদের বিয়ের ব্যাপারে তাঁদের পরামর্শ (সম্মতি) গ্রহণ করো।” জিজ্ঞাসা করা হলো: ‘হে আল্লাহর রাসূল! কুমারী মেয়েরা তো লজ্জায় কথা বলে না?’ তিনি বললেন: “তাঁর নীরবতাই তাঁর সম্মতি।” [নাসায়ী ও মুসনাদ আহমাদ; হাদীসটি সহীহ]
এই হাদীসটি ইসলামের নারী-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কুমারী মেয়ের স্বাভাবিক লজ্জাশীলতাকে সম্মান করে তার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে বিয়ে কোনো জোরপূর্বক বন্ধন নয়, বরং এটি উভয় পক্ষের স্বাধীন ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র অঙ্গীকার।
ইসলামের আলোকবর্তিকা ও নিদর্শন
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এই জীবনব্যবস্থার কিছু মৌলিক চিহ্ন ও আলোকবর্তিকা রয়েছে, যা একজন মুসলিমের
