মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো।” [সূরাহ আল-আনফাল: ৬০]
এই শক্তির মধ্যে অন্যতম হলো মানবসম্পদ। একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে তার জনসংখ্যা এবং বৈষয়িক ও নৈতিক শক্তির ওপর। ইসলাম তাই অধিক সন্তান লাভের উৎসাহ দিয়েছে, কারণ সঠিক আদর্শে গড়া জনসংখ্যা টিকে থাকার ও বিজয়ের অন্যতম শর্ত। তবে মনে রাখতে হবে, ঈমান ও নৈতিকতাহীন জনসংখ্যা স্রেফ আবর্জনা ছাড়া কিছু নয়। হাদীসে এমন সংখ্যাধিক্যকে ‘পানির স্রোতে ভেসে আসা খড়কুটো’র সাথে তুলনা করা হয়েছে, যাদের প্রতি শত্রুর কোনো ভয় থাকবে না এবং তাদের অন্তরে দুনিয়ার মহব্বত ও মউতের ভয় ঢুকে যাবে।
এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এক সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত নারীকে ভালোবেসেছি, কিন্তু সে সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম; আমি কি তাঁকে বিয়ে করব?’ নবীজী তাঁকে নিষেধ করলেন। তিনি দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার একই কথা বললে নবীজী বললেন: “তোমরা এমন নারীকে বিয়ে করো যে অধিক সন্তানপ্রসূ এবং অধিক প্রেমময়ী; কেননা আমি তোমাদের (সংখ্যাধিক্য) নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।” [আবূ দাউদ ও নাসায়ী]
এই হাদীসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে অধিক সন্তানপ্রসূ নারীকে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ মুসলিম উম্মাহর সংখ্যাধিক্য অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্বের বিষয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন সুস্থ ও আদর্শবান সন্তান, যারা ইসলামের পতাকা সমুন্নত রাখবে।
অন্য এক হাদীসে এসেছে, এক নারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষেরা তো আপনার কথা শোনার সুযোগ পায়, আমাদের জন্য একটি দিন নির্ধারণ করুন যেন আমরা আপনার কাছ থেকে আল্লাহ যা শিখিয়েছেন তা শিখতে পারি।’ নবীজী একটি দিন ও স্থান নির্ধারণ করে দিলেন। তিনি তাঁদের শিক্ষা দিলেন এবং পরিশেষে বললেন: “তোমাদের মধ্যে যে নারীর তিনটি সন্তান (নাবালগ অবস্থায়) মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষাকবচ হবে।” এক নারী জিজ্ঞেস করলেন: ‘যদি দুজন হয়?’ রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “দুজন হলেও।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
এই হাদীসে সন্তান হারানোর বেদনার কথা বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে সেই মায়ের জন্য সুসংবাদ, যিনি তার সন্তানদেরকে সঠিকভাবে লালন-পালন করেছেন এবং তারা নাবালক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। এই সন্তানরা তাদের মায়ের জন্য জান্নাত লাভের মাধ্যম হবে। এটি সন্তান লালন-পালনের মহত্ত্ব ও
