সমাজে এক ভয়াবহ কুপ্রথা ছড়িয়ে পড়েছে; তা হলো বিবাহের আগে ‘পরীক্ষা’ করার নামে অবৈধ মেলামেশা ও অবাধ মেলামেশা (Mixing)। ‘তাক্বালীদু ইয়াজিবু আন তাযূলা’ (تقاليد يجب أن تزول) নামক প্রবন্ধে এর ভয়াবহ পরিণাম বর্ণনা করা হয়েছে:
“আধুনিকতার নামে আমরা এমন এক বিজাতীয় সংস্কৃতির দাসে পরিণত হয়েছি, যা আমাদের দ্বীন ও চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক। বিয়ের আগে হবু বর-কনের অবাধ মেলামেশাকে এখন ‘সভ্যতা’ মনে করা হয়। অথচ এটি আগুনের পাশে বারুদ রাখার মতো। এর ফলে প্রতিদিন কত সতীত্বহানি ও কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটছে তার ইয়ত্তা নেই। যখন কামুক পুরুষ তার লালসা চরিতার্থ করে ফেলে, তখন সে কোনো অজুহাত দেখিয়ে মেয়েটিকে পরিত্যাগ করে অন্য শিকারের সন্ধানে নামে। এতে করে পবিত্র বিবাহের পথ রুদ্ধ হয় এবং সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে।”
ইসলাম পরপুরুষ ও পরনারীর নির্জন অবস্থানকে (খলওয়াহ) হারাম করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখনই কোনো পুরুষ ও নারী নির্জনে একত্রিত হয়, শয়তান হয় তাদের তৃতীয়জন।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন, “আমি পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাইনি।” [সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫০৯৬]
ইসলাম বিবাহের আগে কেবল মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি দেখার অনুমতি দিয়েছে। অথবা বিশ্বস্ত কোনো নারীর মাধ্যমে পাত্রীর চরিত্র ও স্বভাব সম্পর্কে জেনে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এর বাইরে যা কিছু ঘটে, তা ধ্বংস ও অপমান ডেকে আনে।
(২) ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর বিশ্লেষণ ও সাহাবীদের আমল
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, পাত্র-পাত্রী দেখার মূল উদ্দেশ্য হলো উভয়ের মাঝে মহব্বত ও ঐক্য তৈরি করা। ‘ইউদামা বাইনাকুমা’ (يؤدم بينكما) শব্দের অর্থ হলো—পরস্পরের মধ্যে মিল ও সদ্ভাব বজায় থাকা। যে বিবাহের আগে কোনো জানাশোনা বা দেখা হয় না, সেখানে অনেক সময় ভালোবাসা দানা বাঁধে না। [রওজাতুল মুহিব্বীন, পৃষ্ঠা: ৬৬]
একটি দুঃখজনক চিত্র: অনেক পিতা তার কন্যাকে সরাসরি দেখার সুযোগ দিতে চান না, অথচ ডিজিটাল ছবি বা স্টুডিওতে তোলা ছবি প্রদর্শন করেন যা অনেক সময় পরপুরুষের হাতে পড়ে ফিতনার কারণ হয়। সুন্নাহ বাদ দিয়ে মনগড়া রীতির অনুসরণের ফলেই এমনটি ঘটে।
সাহাবীদের আমল ও ফুক্বাহাদের মতভেদ: সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে সাহাবী মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ (রা.) জনৈক নারীকে দেখার জন্য বাগানের আড়াল থেকে লক্ষ্য করেছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনি রাসূল (সা.)-এর
