তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ করা উচিত এবং সে কারো জন্য সুপারিশ করলে তাও কবুল করা উচিত।” রাসূলুল্লাহ (সা.) চুপ থাকলেন।
কিছুক্ষণ পর একজন দরিদ্র মুসলিম সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, “এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী?” সে উত্তর দিল, “হে আল্লাহর রাসূল! সে তো একজন সাধারণ দরিদ্র মুসলিম। সে কোথাও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা গ্রহণ না করার মতো, কারো জন্য সুপারিশ করলে তা গ্রহণ না করার মতো এবং সে কোনো কথা বললে তা না শোনার মতো (অর্থাৎ সে গুরুত্বহীন)।”
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন:
هَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلْءِ الأَرْضِ مِنْ مِثْلِ هَذَا
“পৃথিবী ভর্তি ওই (প্রথম) ব্যক্তির চেয়ে এই (দ্বিতীয়) ব্যক্তি অনেক বেশি উত্তম।” [সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫০৯১]
বিবাহপূর্ব পাত্র-পাত্রী দেখা ও এর শরঈ বিধান
বিবাহের পয়গাম বা প্রস্তাব দেওয়ার সময় পাত্র ও পাত্রী একে অপরকে দেখে নেওয়া কেবল বৈধই নয়, বরং এটি সুন্নাহ ও দাম্পত্য সুখের অন্যতম ভিত্তি।
হাদীস শরীফ
১. আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে সংবাদ দিল যে, সে একজন আনসারী নারীকে বিবাহ করতে চায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি তাকে দেখেছ?” সে বলল, “না।” তিনি বললেন, “যাও, তাকে দেখে নাও; কারণ আনসারদের চোখে কিছুটা সমস্যা (ছোট হওয়া) থাকে।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৪২৪; সুনানে নাসায়ী]
২. এই নির্দেশের কারণ অন্য একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “তুমি তাকে দেখে নাও; কারণ এতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা ও মিল সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।” [সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ১০৮৭; সুনানে নাসায়ী]
৩. অন্য বর্ণনায় এসেছে: “যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে সে যেন তার (শরীরের) এমন কিছু দেখে নেয় যা তাকে বিবাহের দিকে আকৃষ্ট করে।” [সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস: ২০৮২; মুসনাদে আহমাদ]
৪. রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন: “যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন তাকে দেখে নেওয়ায় কোনো গুনাহ নেই—যদি সে কেবল বিবাহের উদ্দেশ্যেই তাকায়, যদিও মেয়েটি তা না জানে।” [মুসনাদে আহমাদ; ত্ববারানী]

(১) আধুনিক ‘ডেটিং’ বা অবৈধ মেলামেশার কুফল
বিবাহের আগে পাত্র-পাত্রী দেখার বিধানের অপব্যবহার করে বর্তমানে মুসলিম

« <
/ 351
> »