তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

মাঝে কাদি আমি—ওগো মোর প্রিয় স্বামী!
জানি আমি—তুমি ভালোবাসতে আমার এই সাজ,
তাই তো তোমায় আনন্দ দিতে এসেছি সেজে আজ।
লোকে হয়তো ভাববে মোরে—ভুলি শোকের ভার,
কিন্তু এ তো কেবল তোমায় দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার!”
ইবনে আবদে রাব্বিহি-র ঘটনা
ইবনে আবদে রাব্বিহি মরুভূমিতে এক তরুণীকে দেখলেন, যে কবরের সাথে নিজের গাল লেপ্টে দিয়ে কাঁদছে আর বলছে:
“মোর এই গাল ঢাল হয়ে আজ বাঁচাক তোমায় কবরের ঘর্ষণ হতে,
ওগো কবরের অধিপতি! যাঁর প্রয়াণে আজ সব পথ অন্ধকার।
শোনো ওগো প্রিয়! আজ শোনাই তোমায় মোর যাতনার বাণী,
যদি তা নিভাতে পারে এ হৃদয়ের দহন—তাও তো আমি জানি।”

নারীর প্রতি অসিয়ত ও সদয় আচরণ
বিদায় হজ্জের ভাষণে নবী করীম (সা.) মানবজাতির উদ্দেশে এক অনন্য নির্দেশনাবলি পেশ করেন। সেই ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নারীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ। তিনি বলেন:
“শোনো! তোমরা নারীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ গ্রহণ করো। নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো; কেননা তোমরা তাঁদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর (কালেমার) মাধ্যমে তাঁদের সতীত্বকে নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাঁদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো—তাঁরা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে স্থান না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তাঁরা এমনটি করে, তবে তোমরা তাঁদের প্রহার করো—তবে তা যেন রূঢ় বা জখমকারী না হয়। আর তোমাদের ওপর তাঁদের অধিকার হলো—তোমরা ন্যায়সংগতভাবে তাঁদের অন্ন ও বস্ত্রের সংস্থান করবে। আমি তোমাদের মাঝে এমন এক বস্তু রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না; আর তা হলো—আল্লাহর কিতাব (কুরআন)। (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; তখন তোমরা কী বলবে?
সাহাবীগণ বললেন: “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেছেন।” তখন নবী করীম (সা.) তাঁর তর্জনী আকাশের দিকে তুললেন এবং মানুষের দিকে ইশারা করে (তিনবার) বললেন: “হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।” [সহীহ মুসলিম]
এই হাদীসে নারীদের প্রতি সদয় আচরণের গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নবীজী (সা.) এখানে নারীদেরকে ‘আল্লাহর আমানত’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর অর্থ হলো, নারীরা কোনো পুরুষের সম্পদ নয়, বরং

« <
/ 351
> »