তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

নারী এমন আছেন যারা আল্লাহকে ভয় করেন না এবং স্বামীর জীবদ্দশায় ঘরকে জাহান্নাম বানিয়ে রাখেন, অথচ স্বামী মরলে কান্নাকাটির মাধ্যমে আকাশ-বাতাস ভারি করে তোলেন। অথচ একজন মুমিন নারীর উচিত স্বামীর জীবদ্দশায় তাকে সন্তুষ্ট রাখা এবং তার মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করা।
হারুনুর রশীদের পুত্র মুহাম্মদের স্ত্রীর বিলাপ
মুহাম্মদ ইবনে হারুনুর রশীদ ‘লুবানাহ’ নামক আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বাসর হওয়ার আগেই মুহাম্মদ নিহত হন। তাঁর বিরহে লুবানাহ গেয়েছিলেন:
“কাঁদি না আমি বিলাস-সুখ বা রঙের খেলার তরে,
কাঁদি কেবল বীর পুরুষের শ্রেষ্ঠ গুণের তরে।
বাসর রাতের আগেই জীবন রিক্ত হলো মোর,
হে বীর! কেন ধূলায় পড়ে ঘুমাও নিঝুম ঘোর?”
এক বেদুইন নারীর শোকগাথা
স্বামীর মৃত্যুতে এক গ্রাম্য নারী বিলাপ করে বলেছিলেন:
“একই মূলে জন্ম নেওয়া দুটি ডাল ছিলাম মোরা,
সবুজ পাতায় পল্লবিত—সুখে আত্মহারা।
শাখা যখন দীর্ঘ হলো, ফল ধরল ডালে,
ভাগ্যের এক নির্মম ঝড়ে সব হারাল কালে।
আঁধার রাতে একাকী চাঁদ ছিল যে মোর স্বামী,
আজ চাঁদেরই বিচ্ছেদেতে আঁধারে কাঁদি আমি।”
কবরস্থানে আসমাঈ-এর একটি ঘটনা
বিখ্যাত ভাষাবিদ আসমাঈ বলেন—আমি আমার এক বন্ধুসহ গ্রাম্য এক কবরস্থানে প্রবেশ করলাম। সেখানে দেখলাম এক তরুণী—যেন এক জীবন্ত মুক্তো—মূল্যবান অলঙ্কারে সজ্জিতা হয়ে কবরের পাশে অঝোরে কাঁদছে। তাঁর সুর ছিল অত্যন্ত করুণ। আমি বললাম: ‘এমন অদ্ভুত দৃশ্য তো আর দেখিনি! শোকে কাতর এক নারী, অথচ পরিধানে শ্রেষ্ঠ পোশাক ও অলঙ্কার!’
আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: ‘হে নারী! তোমাকে তো অত্যন্ত ব্যথিত দেখছি, কিন্তু তোমার পোশাকে তো শোকের লেশমাত্র নেই?’ তিনি তখন পদ্যাকারে বললেন:
“যদি শুধাও মোরে কিসের তরে আমার এই রোদন,
তবে জানো—এই কবরের মাঝে বন্দী মোর জীবন।
মাটি আজ আমাদের মাঝে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল,
তবু তাকে লজ্জা পাই আমি—রেখে তাঁর খেয়াল।
যেমনটি পেতাম লজ্জা যবে জীবিত ছিল সে,
তাঁর কবরের ধূলায় আমি তাই আসি নাই কষে।
ভয় পাই যদি আমার রূপে কভু লাগে তার ব্যথা,
তাই তো সেজেছি আমি—কহিতে তাঁর গোপন কথা।”
এরপর তিনি আরও উচ্চস্বরে কেঁদে বলতে লাগলেন:
“ওগো কবরের মালিক! তুমিই তো ছিলে মোর সুখের ঠাঁই,
দুনিয়াতে মোর সহায় ছিলে—সে কথা কি ভুলা যায়?
হেরি তব কবর আজ শ্রেষ্ঠ সাজে সেজেছি আমি,
মৃতদের

« <
/ 351
> »