তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ধরা আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে!!” এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “কোনো নারী যেন স্বামীর অনুমতি ছাড়া (নফল) রোজা না রাখে।” সাফওয়ান (রা.) তাঁর তৃতীয় অভিযোগের জবাবে বললেন: “আমি সূর্য ওঠার আগে ফজর পড়ি না—আসলে আমরা এমন এক পরিবারের মানুষ যাদের সূর্য না ওঠা পর্যন্ত ঘুমই ভাঙে না (অর্থাৎ বংশগতভাবে তারা গভীর ঘুমে অভ্যস্ত ছিল)।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “হে সাফওয়ান! যখনই তোমার ঘুম ভাঙবে, তখনই নামাজ পড়ে নিও।” [আবূ দাউদ ও নাসায়ী]
লক্ষ্য করুন, এই নারী কতটা সচেতন! তাঁর স্বামী কেবল সূর্য ওঠার আগে ফজরের নামাজ পড়তে পারছেন না—তাতেই তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেছেন। অথচ আজকের যুগের চিত্র কতই না করুণ! বহু নারী-পুরুষ তাঁদের জীবনসঙ্গীদের নামায ত্যাগের বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। ফলে তাঁদের সন্তানরাও বড় হচ্ছে বেনামাযী হয়ে। আদর্শ পরিবার গঠনে নামাজের প্রতি এই সচেতনতা আজ বড়ই প্রয়োজন।
শয্যায় স্ত্রীর অধিকার
স্বামীর যেমন স্ত্রীর সান্নিধ্য পাওয়ার অধিকার আছে, তেমনি স্ত্রীরও স্বামীর ওপর অধিকার রয়েছে। স্বামীর উচিত নিজের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা ধরে রাখা এবং ইবাদত বা অন্য কাজে নিজেকে এতটা ক্লান্ত না করা যাতে স্ত্রীর পাওনা আদায়ে সে অক্ষম হয়ে পড়ে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, অতিরিক্ত ক্লান্তি দাম্পত্য জীবনের অন্তরায়।
নফল রোজা ভাঙার বিধান
নফল রোজা ভাঙলে তা কাজা করা ওয়াজিব নয়। আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত—আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য খাবার তৈরি করলাম। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে এলেন। খাবার সামনে দেওয়া হলে এক ব্যক্তি বললেন, ‘আমি তো রোজা!’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “তোমার ভাই তোমার জন্য মেহমানদারির আয়োজন করেছে এবং কষ্ট করেছে।” এরপর তাকে বললেন: “রোজা ভেঙে ফেলো এবং চাইলে অন্য কোনো দিন এর বদলে একটি রোজা রেখো।” [বায়হাকী; সনদ সহীহ]
স্বামীর অনুমতি ছাড়া গৃহের অর্থ ব্যয় করা নিষেধ
হাদীস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“কোনো নারী যেন স্বামীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ঘরের কোনো কিছু ব্যয় না করে।”
জিজ্ঞাসা করা হলো: ‘হে আল্লাহর রাসূল! খাবারও কি দেওয়া যাবে না?’
তিনি বললেন: “খাবার তো আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।” [তিরমিযী]
তিনি আরও বলেছেন:
“যদি কোনো নারী স্বামীর ঘর থেকে (তাঁর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে) সদকা করে, তবে সে সওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও সওয়াব

« <
/ 351
> »