স্ত্রীর নফল রোজা রাখা নিষেধ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“কোনো নারীর জন্য তার স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া (নফল) রোজা রাখা বৈধ নয়।” [সহীহ বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ]
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে:
“স্বামী উপস্থিত থাকা অবস্থায় তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোনো নারী যেন রোজা না রাখে।”
অর্থাৎ, স্বামী যখন বাড়িতে অবস্থান করেন, তখন তাঁর অনুমতি ছাড়া নফল রোজা রাখা যাবে না; তবে রমজানের ফরজ রোজার জন্য স্বামীর অনুমতির প্রয়োজন নেই। ইমাম নববী (রহ.) ‘শরহে মুসলিম’-এ (৭/১১৫) লিখেছেন: “আমাদের ফকীহগণের মতে এটি একটি হাররাম বা নিষিদ্ধ কাজ।” হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) ‘ফাতহুল বারী’তে উল্লেখ করেছেন যে, এটি জুমহুর বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের অভিমত।
এই বিধানের অন্তর্নিহিত কারণ হলো—স্ত্রীর সান্নিধ্য লাভ করা স্বামীর একটি তাৎক্ষণিক পাওনা বা ওয়াজিব হক। নফল ইবাদতের কারণে স্বামীর এই ওয়াজিব পাওনা ব্যাহত করা জায়েজ নয়। এজন্যই হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: “এই হাদীস প্রমাণ করে যে, স্ত্রীর ওপর নফল ইবাদতের চেয়ে স্বামীর অধিকার রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়াজিব পালন করা নফলের চেয়ে অগ্রগণ্য।”
ইসলাম দাম্পত্য সম্পর্ককে কতটা সুশৃঙ্খল করেছে, তা এই হাদীসটি গভীরভাবে উপলব্ধি করলে বোঝা যায়। এমনকি নফল ইবাদতও যদি দাম্পত্য জীবনে স্বামীর হকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে ইসলাম সেই ইবাদত থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল (রা.)-এর ঘটনা
আবূ সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত:
একদা এক নারী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এলেন—তখন আমরাও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আরজ করলেন: “আমার স্বামী সাফওয়ান ইবনুল মুয়াত্তাল; আমি নামাজ পড়লে তিনি আমাকে মারধর করেন, রোজা রাখলে রোজা ভাঙিয়ে দেন এবং সূর্য না ওঠা পর্যন্ত তিনি ফজরের নামাজ পড়েন না!”
সাফওয়ান (রা.) তখন সেখানেই ছিলেন। নবীজী তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! তাঁর অভিযোগ—নামাজ পড়লে মারধর করি; আসলে সে নামাজে দুটি বড় সূরা পড়ে, অথচ আমি তাকে তা করতে নিষেধ করেছি (যাতে দীর্ঘ সময় ব্যয় না হয়)।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই নারীকে বললেন: “মানুষের জন্য একটি সূরাই যথেষ্ট।” সাফওয়ান (রা.) আবার বললেন: “তাঁর দ্বিতীয় অভিযোগ—রোজা রাখলে আমি তা ভাঙিয়ে দিই; আসলে সে সব সময় রোজা রাখতে শুরু করে, আর আমি একজন টগবগে যুবক মানুষ, ধৈর্য
