তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সাধ্যের অতীত হলে ভিন্ন কথা।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন:
“সতর্ক থেকো! তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায় (অর্থাৎ সে তোমার ওপর কতটা সন্তুষ্ট), কারণ সে-ই তোমার জান্নাত অথবা তোমার জাহান্নাম!!” [তিরমিযী; সনদ সহীহ]
এখানে মূল আরবী পাঠে ‘লা আলূহু’ (لا آلوه) অর্থ হলো—আমি তার আনুগত্য ও খিদমতে কোনো প্রকার ত্রুটি বা অবহেলা করি না। আর রাসূল (সা.)-এর উত্তর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—স্বামীর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি স্ত্রীর জন্য জান্নাত বা জাহান্নামের কারণ হতে পারে। এটি শর্তসাপেক্ষে বলা হয়েছে, অর্থাৎ স্বামী যদি আল্লাহর নির্দেশের ভেতর থাকে এবং স্ত্রী তার আনুগত্য করে, তবে তা সওয়াবের কারণ হয়। পক্ষান্তরে, স্বামীর অবাধ্যতা শাস্তির কারণ।
স্ত্রীকে দীর্ঘকাল একা ফেলে রাখা নিষেধ
দাম্পত্য জীবনে কেবল স্ত্রীরই দায়িত্ব নয়, বরং স্বামীরও কিছু করণীয় রয়েছে। একদা উমর (রা.) রাতে মদীনার অলিগলি পাহারা দিচ্ছিলেন। একটি ঘর থেকে তিনি এক নারীর করুণ সুরের কবিতা শুনতে পেলেন:
“রজনী হয়েছে দীর্ঘ, চারিদিক তার কৃষ্ণকালো,
ঘুমে নেই মোর আঁখি, সঙ্গী বিহনে নিভেছে আলো।
পাশে যদি আজ থাকিত সে মোর, রত থাকিতাম খেলায়,
পূর্ণিমা চাঁদ উঠিত যেন গো নিশীথ আঁধার বেলায়।
আল্লাহর কসম! যদি না থাকিত প্রভুর কঠিন ভয়,
কাঁপিত এ শয্যা আজ মোর, হতো না তো আর সয়!
কিন্তু আমার কাঁধে আছে সদা এক পাহারাদার,
লিখছে সে আমল অলসতা নেই তিল পরিমাণ তার।
রবের ভয় আর লোকলজ্জা যে বাধা দেয় আমায়,
স্বামীর আমানত খেয়ানত করা সাজে না তো এ ধরায়!”
উমর (রা.) খোঁজ নিয়ে জানলেন—ঐ নারীর স্বামী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে গিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে তাঁকে ফিরে আসার ব্যবস্থা করলেন এবং কন্যা হাফসা (রা.)-কে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন: “মা, একজন নারী স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারে?” হাফসা (রা.) লজ্জিত হয়ে বললেন: “সুবহানাল্লাহ! আমার মতো মানুষকে আপনি এটি জিজ্ঞেস করছেন?” উমর (রা.) বললেন: “মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমার উদ্দেশ্য, অন্য কিছু নয়।” হাফসা (রা.) বললেন: “পাঁচ থেকে ছয় মাস।” এরপর থেকে উমর (রা.) মুজাহিদদের জন্য সময় বেঁধে দিলেন—তারা এক মাস পথে থাকবে, চার মাস সীমান্তে থাকবে এবং এক মাস ফেরার পথে ব্যয় করবে। অর্থাৎ কোনো পুরুষ ছয় মাসের বেশি পরিবার ছেড়ে দূরে থাকবে না। [ইমাম মালেক]
স্বামীর অনুমতি ছাড়া

« <
/ 351
> »