সমাজের প্রতিনিধি হয়ে আপনার কাছে এসেছি। আল্লাহ পুরুষদের ওপর জিহাদ ফরজ করেছেন; তারা সফল হলে নেকি পায়, আর শহীদ হলে আল্লাহর কাছে জীবিত থেকে রিজিক পায়। কিন্তু আমরা নারীরা তো তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকি; আমাদের জন্য এর প্রতিদান কী?’ রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন:
“তুমি যে সব নারীর দেখা পাবে তাদের জানিয়ে দিও যে—স্বামীর আনুগত্য করা এবং তার অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া সেই জিহাদের সমতুল্য; কিন্তু তোমাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক নারীই এটি পালন করে থাকে!”
পারিবারিক দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতা
স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অন্যতম দায়িত্ব হলো—স্বামীর পিতা-মাতা ও ভাই-বোনদের সম্মান করা এবং তাঁদের সাথে সদাচরণ করা। বিশেষ করে শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি দয়াশীল হওয়া এবং স্বামীর অবর্তমানে তাঁদের দেখাশোনা করা। মনে রাখতে হবে, আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, পানি লাগে; তেমনি কঠোরতার বিপরীতে নম্রতাই সৌন্দর্য বয়ে আনে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা সেই নারীর দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকান না, যে তার স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না; অথচ সে এক মুহূর্তের জন্যও স্বামী থেকে অমুখাপেক্ষী নয় (অর্থাৎ তার সকল প্রয়োজন স্বামীর মাধ্যমেই পূরণ হয়)।” [মুসনাদ আল-বাযযার; হাদীসটি সহীহ]
এই হাদীসটি আমাদের শেখায় যে, স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেন এবং স্ত্রীর উচিত সেই অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। কৃতজ্ঞতা কেবল মৌখিক নয়, বরং আচরণেও তা প্রকাশ পেতে হবে।
অবাধ্যতার পরিণাম
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন:
“দুই শ্রেণির মানুষের নামাজ তাদের মাথার ওপর অতিক্রম করে না (অর্থাৎ কবুল হয় না): এক—সেই দাস যে তার মনিবকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে; দুই—সেই নারী যে তার স্বামীর অবাধ্য হয়েছে, যতক্ষণ না সে আনুগত্যে ফিরে আসে।” [তাবারানী ও হাকেম]
এখানে স্বামীর অবাধ্য হওয়াকে পলাতক দাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি বিষয়টির গুরুত্বই বোঝায় না, বরং সতর্কও করে যে, স্বামীর অবাধ্যতা ইবাদতের ওপর প্রভাব ফেলে।
হুসাইন ইবনে মিহসান (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, আমার ফুফু আমাকে বলেছেন: একদা আমি কোনো প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: “হে নারী! তুমি কি বিবাহিতা?” আমি বললাম: ‘হ্যাঁ’। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: “স্বামীর সাথে তোমার আচরণ কেমন?” আমি আরজ করলাম: ‘আমি তার সেবা ও আনুগত্যে কোনো কমতি করি না, তবে আমার
