তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ক্ষেত্রে—সে স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়ভার গ্রহণ করে। অনেকে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুরুষের দ্বিগুণ সম্পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হন, অথচ এটি কোনো শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, বরং জীবনের দায়বদ্ধতার ফল। একজন পুরুষকে মোহরানা আদায় করতে হয়, স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে হয় এবং অভাবী আত্মীয়স্বজন বা মা-বোনের দায়িত্বও তাকেই নিতে হয়, যেখানে নারীর ওপর এমন কোনো আর্থিক বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কন্যা সন্তান ভাইদের চেয়েও বেশি সম্পদের অধিকারী হতে পারে।
দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি হলো সদ্ভাব, যা আল্লাহ তা‘আলার সুস্পষ্ট নির্দেশ। ইরশাদ হয়েছে: “আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো; আর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো, তবে হতে পারে যে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ প্রচুর কল্যাণ রেখেছেন।” [সূরাহ আন-নিসা: ১৯] এই ‘সদ্ভাবে জীবনযাপনের’ (معاشرة بالمعروف) অর্থ কেবল অন্ন-বস্ত্র জোগানো নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফকীহগণের মতে, স্বামীর সামর্থ্য থাকলে স্ত্রীর শারীরিক চাহিদাও মেটানো তার ওপর ওয়াজিব, যা দাম্পত্যের মূল উদ্দেশ্য ও প্রশান্তির উৎস। [সূত্র: রওদাতুল মুহিব্বীন]
স্ত্রীর অধিকারের পরিধি নির্ধারণ করতে গিয়ে এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, “আমাদের কারো ওপর তার স্ত্রীর হক কী?” তিনি বলেছিলেন: “তুমি যখন খাবে তাকেও খাওয়াবে, তুমি যখন পরিধান করবে তাকেও পরাবে; তার চেহারায় আঘাত করবে না, তাকে গালি দেবে না বা কটু কথা বলবে না এবং মান-অভিমানের কারণে ঘর ছাড়া অন্য কোথাও তার থেকে পৃথক থাকবে না।” [মুসনাদ আহমাদ, আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ]
এখানে স্পষ্টভাবে তিনটি নির্দেশ রয়েছে: ১. শারীরিক মর্যাদা: চেহারা হলো মানুষের সম্মান ও সৌন্দর্যের প্রতীক, যেখানে আঘাত করা অত্যন্ত অবমাননাকর। ২. ভাষাগত শালীনতা: তাকে কুরুচিপূর্ণ কথা বা গালিগালাজ করা হারাম। নারীর ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ওয়াজিব। মেরি স্টোপস নারী জাতির মনস্তত্ত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, নারীকে সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি; কারণ যে নারী নিজেকে তুচ্ছ মনে করে, সে অবচেতনভাবেই চারিত্রিক স্খলনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পক্ষান্তরে তার ব্যক্তিত্বের মর্যাদা জাগিয়ে তুললে সে আত্মবিশ্বাসী ও অবিচল হয়ে ওঠে। ৩. মানসিক সান্নিধ্য: ঘর ছাড়া অন্য কোথাও পৃথক থাকা বা রাগ করে বিছানা আলাদা করা অনুচিত। কুরআনের নির্দেশে শয্যা পৃথক করার অর্থ কেবল একই বিছানায় থেকে শারীরিক

« <
/ 351
> »