তাকে পূর্ণ অধিকার দিয়েছে।’ এর উত্তর হলো, পাশ্চাত্য মূলত নারীকে কর্মক্ষেত্রে ঠেলে দিয়েছে কেবল তার ভরণপোষণের দায়ভার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। এর ফলে শিশুরা মায়ের মমতা ও সযত্ন লালন-পালন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই ভুলের চড়া মাসুল তাদের দিতে হচ্ছে—গড়ে উঠছে এক ধ্বংসাত্মক প্রজন্ম, যারা পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বিলুপ্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে এবং পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে অশ্লীলতা ও মারাত্মক সব ব্যাধি। অধিকারের এই মেকি চাদরে ঢেকে আজ নারীকে পুরুষ শিকারের ফাঁদ বানানো হয়েছে। রাস্তাঘাট, শপিংমল, নাচঘর আর পানশালায় তাদের পণ্য হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। অর্থ উপার্জনের নেশায় তাদের দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্র। এরপর যখন তাদের রূপ-যৌবন ফুরিয়ে যায়, তখন তাদের ছুঁড়ে ফেলা হয় রাস্তার ধুলোয়; তারা পরিণত হয় মুচি, ঝাড়ুদার কিংবা কুলি হিসেবে। এটি কি নারীর অধিকার, নাকি চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও নীচতা?
পাশ্চাত্য ভ্রমণকারী একজন শিক্ষক বর্ণনা করেন, তিনি যখন পশ্চিমা নারীদের সামনে ইসলামের দেওয়া নারীর অধিকার এবং এই মহান দ্বীন তাদের যে মর্যাদা দিয়েছে তা তুলে ধরছিলেন—কিভাবে ইসলাম তাকে ঘরের রাণী ও পরিবারের প্রধান করেছে এবং সন্তান গড়ার মহান দায়িত্ব তার কাঁধে সঁপেছে—তখন অনেক নারী কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁরা আফসোস করে বলছিলেন যে, পাশ্চাত্যের এই ‘সভ্যতার জাহান্নাম’ থেকে মুক্তি পেয়ে যদি তাঁরা প্রাচ্যের সেই নিরাপদ জীবনে আশ্রয় পেতেন!
ইসলাম নারীকে কোনো পণ্য বা পুরুষের ভোগের সামগ্রী হিসেবে দেখেনি, বরং তাকে দিয়েছে জীবনসঙ্গিনীর মর্যাদা, পরিবারের ভিত্তি এবং সভ্যতার জননী হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান। স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, ন্যায়বিচার এবং অকৃত্রিম শ্রদ্ধা—যা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো মতবাদ আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি।
স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার: সাম্য, ন্যায়বিচার ও সদ্ভাব
ইসলামী শরিয়তে স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক কেবল একটি চুক্তির নাম নয়, বরং এটি পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যের এক পবিত্র বন্ধন। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন: “আর নারীদের তেমনই ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন রয়েছে তাদের ওপর পুরুষদের; আর তাদের ওপর পুরুষদের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২৮] এই আয়াতে বর্ণিত বিশেষ মর্যাদা বা ডিগ্রির ব্যাখ্যায় ইমাম যাজ্জাজ (রহ.) বলেন, স্ত্রী যেমন স্বামীর মাধ্যমে তৃপ্তি লাভ করে, স্বামীও তার মাধ্যমে তৃপ্তি পায়; তবে স্বামীর শ্রেষ্ঠত্ব মূলত তার দায়িত্ব পালনের
