সমষ্টি নয়, বরং এটি মানবতার পরম সম্মানের ঘোষণা। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে যখন আমরা নারীর অধিকার নিয়ে পর্যালোচনা করি, তখন ইসলামের সেই চিরন্তন সত্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইতিহাসে বর্ণিত আছে, যখন ইসলাম নারীর পূর্ণ মর্যাদা নিশ্চিত করছিল, ঠিক সেই সময় ‘ম্যাকন’ (Macon) নামক স্থানে এক পাদ্রী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তর্কের বিষয় ছিল— ‘নারী কি স্রেফ একটি প্রাণহীন দেহ, নাকি তার আত্মা আছে?’ দীর্ঘ বিতর্কের পর তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, নারীর কোনো ‘মুক্তিকামী আত্মা’ নেই এবং সে জাহান্নামের আজাব থেকে নিষ্কৃতি পাবে না (কেবল যিশুর মাতা মেরি ব্যতীত)।
পাশ্চাত্যের জাতিগুলো খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের সময় ধর্মযাজকদের এই নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি তাদের সমাজব্যবস্থায় গভীরভাবে গেঁথে যায়। ৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে (নবী সা.-এর জীবদ্দশায়) ফরাসিরা একটি বড় সম্মেলন করে আলোচনার জন্য বসে— ‘নারীকে কি মানুষ বলা যাবে, নাকি সে মানুষ নয়?’ অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, নারী মানুষ বটে, তবে সে সৃষ্টি হয়েছে কেবল পুরুষের গোলামি করার জন্য। আরও বিস্ময়কর ও লজ্জাজনক তথ্য হলো, ১৮০৫ সাল পর্যন্ত খ্রিষ্টীয় আইনে পুরুষদের জন্য তাদের স্ত্রী বিক্রি করা বৈধ ছিল! স্ত্রীর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ছয় পেন্স (আধ শিলিং)! এমনকি কয়েক বছর আগেও ইতালিতে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অন্য একজনের কাছে কিস্তিতে বিক্রি করে দিয়েছিল; পরে ক্রেতা যখন শেষ কিস্তির টাকা দিতে অস্বীকার করে, তখন সেই স্বামী তাকে খুন করে বসে। [সূত্র: ‘আল-মারআতু বাইনাল ফিকহি ওয়াল কানুনি’, ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ]
এই প্রেক্ষাপটে সাইয়্যিদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.) তাঁর ‘পর্দা’ (الحجاب) গ্রন্থে লিখেছেন: “প্রাচীন খ্রিষ্টান ধর্মগুরুদের মৌলিক ধারণা ছিল এই যে—নারী হলো পাপের উৎস এবং সকল মন্দ ও পাপাচারের মূল। পুরুষের জন্য সে জাহান্নামের একটি দরজা; কারণ সে পুরুষকে উত্তেজিত করে এবং পাপে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করে। মানবজাতির ওপর আপতিত সকল ধ্বংস ও দুর্দশা তার মাধ্যমেই উৎসারিত হয়েছে। সুতরাং কেবল নারী হওয়ার কারণেই তাকে তার রূপ-যৌবন নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত; কারণ এটি শয়তানের এক মারাত্মক অস্ত্র। তার উচিত আমৃত্যু প্রায়শ্চিত্ত করে যাওয়া, কারণ তার কারণেই এই পৃথিবীতে দুঃখ-কষ্ট আর অভিশাপ নেমে এসেছে।”
অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন— ‘পাশ্চাত্যের সেই অন্ধকার অতীত নিয়ে আমাদের কাজ কী? বর্তমানের পাশ্চাত্য তো নারীর মর্যাদা বুঝেছে এবং
