অস্বীকার করেছিল, তখন সে আমার ওপর ঈমান এনেছে; যখন মানুষ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তখন সে আমাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিয়েছে; মানুষ যখন আমাকে রিক্তহস্ত করেছিল, তখন সে তার সমস্ত সম্পদ দিয়ে আমাকে সান্ত্বনা ও সহযোগিতা দিয়েছে; আর আল্লাহ কেবল তাঁর মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দান করেছেন, যা অন্য কোনো স্ত্রীর মাধ্যমে দেননি।” [সহীহ বুখারী, মুসনাদ আহমাদ]
খ্রিষ্টান চিন্তাবিদ ডক্টর নাযমী লূক্বা তাঁর ‘মুহাম্মাদ ফী হায়াতিহিল খাছাহ’ গ্রন্থে নবীজী (সা.)-এর এই অকৃত্রিম বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লিখেছেন, এক অবিশ্বাস্য আনুগত্যের কথা, যা মৃত্যুর বহুবছর পরও একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর স্মৃতিতে মগ্ন রাখে। বদর যুদ্ধের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, নবীজীর জামাতা আবুল আস ইবনুর রবী যখন বন্দি হলেন, তখন তাঁর স্ত্রী যয়নব (রা.) মুক্তিপণ হিসেবে একটি থলি পাঠিয়েছিলেন। সেই থলির ভেতর ছিল একটি হার—যা ছিল তাঁর মা খাদিজা (রা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত। হারটি দেখামাত্রই নবীজী (সা.)-এর চোখের সামনে যেন তাঁর সেই প্রিয়তমা সঙ্গিনীর কণ্ঠদেশ ভেসে উঠল, যার কোলে তিনি নবুয়তের গুরুদায়িত্বের ক্লান্তিতে প্রশান্তি খুঁজতেন। সেই স্মৃতিময় উপহারটির সম্মানে নবীজী (সা.) যয়নবকে হারটি ফিরিয়ে দিতে ও তাঁর স্বামীকে মুক্ত করে দিতে সাহাবীদের অনুরোধ করেছিলেন।
খাদিজা (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই গভীর শ্রদ্ধা তাঁর উন্নত চরিত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও (বিয়ের সময় খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ আর নবীজীর পঁচিশ) তাঁর প্রখর বুদ্ধি ও মহৎ আত্মার প্রতি নবীজীর মূল্যায়ন ছিল প্রশ্নাতীত। খাদিজা (রা.)-এর জীবদ্দশায় তিনি আর কোনো বিয়েও করেননি। ডক্টর নাযমী লূক্বা যথার্থই লিখেছেন, এই ঘটনার পর আয়েশা (রা.) আর কোনোদিন খাদিজা (রা.)-এর ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক শব্দ উচ্চারণ করার সাহস পাননি।
মূলত মুহাম্মদ (সা.)-এর এই বিশ্বস্ততা কেবল খাদিজা (রা.)-এর স্মৃতি বা তাঁর প্রতি ভালোবাসাই ছিল না, বরং এটি ছিল এক মহান আত্মার পক্ষ থেকে আরেক মহীয়সী আত্মার প্রতি চিরস্থায়ী কৃতজ্ঞতার উজ্জ্বল দলিল। বর্তমান অকৃতজ্ঞতার যুগে এটি প্রতিটি স্বামী ও স্ত্রীর জন্য এক চিরন্তন আদর্শ। এটি কেবল প্রেম নয়, বরং এটি সেই আদর্শ, যা কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের দম্পতিদের শেখাবে—কীভাবে একে অপরের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা বজায় রাখতে হয়।
স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার:
ইসলামী জীবনদর্শনে স্ত্রীর অধিকার কেবল কিছু সামাজিক বিধানের
