হিফাজতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী—আল্লাহ এদের জন্য রেখেছেন ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।” [সূরাহ আল-আহযাব: ৩৫]
এই আয়াতে বর্ণিত প্রতিটি গুণই একজন নারীর শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক। এখানে ‘অনুগত’ হওয়া বলতে নেক কাজে আল্লাহ ও স্বামীর আনুগত্যকে বোঝানো হয়েছে। ‘ধৈর্যশীল’ তারা, যারা ইবাদত পালনে অবিচল এবং জীবনের যেকোনো বিপদ-আপদ ও দুঃখ-কষ্টে রবের ওপর ভরসা রাখে। একইভাবে যারা আল্লাহর সামনে সিজদাবনত এবং মানুষের সাথে আচরণে অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র, তারাই প্রকৃত সফলকাম।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই আয়াতে অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি রোজার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর পরপরই ‘লজ্জাস্থান হিফাজতকারী’দের প্রশংসা করা হয়েছে। এর গূঢ় রহস্য হলো, রোজা মানুষের জৈবিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রবৃত্তিকে দমন করে। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, যেহেতু রোজা কামভাব দমনে সবচেয়ে বড় সহায়ক, তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্যহীনদের রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সুতরাং রোজার মাধ্যমে যারা নিজেদের প্রবৃত্তিকে সংবরণ করে এবং নিজেদের পবিত্রতাকে হারাম থেকে রক্ষা করে, আল্লাহ তাদের জন্য রেখেছেন ক্ষমা ও অকল্পনীয় মহা প্রতিদান।
হাদীসের আলোকে নেককার নারীর বৈশিষ্ট্য ও আদর্শ জীবন
ইসলামী শরিয়তে নেককার নারী কেবল একজন স্ত্রী নন, বরং তিনি মুমিন পুরুষের দ্বীনের অর্ধেক এবং দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন হাদীসে আদর্শ নারীর যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা যেমন গভীর মমতাময়ী, তেমনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও অনুগত। জান্নাতী নারীর পরিচয় দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমি কি তোমাদের জান্নাতী নারীদের পরিচয় দেব না? তারা হলো সেই সব নারী, যারা তাদের স্বামীদের অত্যন্ত ভালোবাসে এবং অধিক সন্তান জন্মদানকারী। স্বামী যদি কখনো তার ওপর রাগান্বিত হয়, তবে সে এসে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে— ‘এই যে আমার হাত আপনার হাতের ওপর; আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পাতা এক করব না (ঘুমাব না)!!’” [তাবারানী]
আদর্শ স্ত্রীর এই চারিত্রিক মাধুর্যের একটি বাস্তব ও হৃদয়স্পর্শী চিত্র পাওয়া যায় জনৈক ব্যক্তির চিঠিতে, যা তিনি তাঁর স্ত্রীর গুণাবলী বর্ণনা করে নিজের চাচাকে লিখেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন:
“হে আমার চাচা, আমার পিতা এবং আমার বন্ধু! আপনার কন্যার সাথে আমার বিয়ে সহজ করে দেওয়ার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি কখনো রূঢ় হলেও সে মনে কষ্ট চেপে রাখে
