ইসলামী জীবনদর্শনে নারী কেবল সমাজের অর্ধেক অংশই নয়, বরং এক আদর্শ সভ্যতার ভিত্তিপ্রস্তর। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তা‘আলা নেককার ও মুমিন নারীদের এমন কিছু কালজয়ী বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে অনন্য মর্যাদার অধিকারী করে। এই গুণাবলি কেবল আধ্যাত্মিক উৎকর্ষই নয়, বরং একটি সুখী ও শান্তিময় পারিবারিক কাঠামোর মূল চাবিকাঠি।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “অতএব নেককার নারীগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহর হিফাজতে (তথা তাঁর দেওয়া নির্দেশে) স্বামীর অনুপস্থিতিতে (নিজেদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) হিফাজতকারিনী।” [সূরাহ আন-নিসা: ৩৪]
এই আয়াতে ‘ক্বনিতাত’ শব্দটির গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যান্য মফাসসিরগণের মতে, এর অর্থ হলো সেই সব নারী, যারা তাদের স্বামীদের প্রতি পূর্ণ অনুগত এবং শ্রদ্ধাশীল।
এছাড়া ‘হাফিযাতুল লিল-গইব’ গুণটির ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত তাবিঈ সুদ্দী (রহ.) বলেন, এর অর্থ হলো—স্ত্রী তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের সতীত্ব রক্ষা করবে এবং স্বামীর ধন-সম্পদ ও পারিবারিক গোপনীয়তা সযত্নে হিফাজত করবে। আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে আমানত রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন, তারা ঠিক সেভাবেই নিজেদের পবিত্রতা ও দায়বদ্ধতা বজায় রাখে।
নেককার নারীর এই চারিত্রিক মাধুর্য আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে সূরাহ আত-তাহরীমের বর্ণনায়। আল্লাহ তা‘আলা মুমিন জননীদের সম্বোধন করে বলেন: “যদি নবী তোমাদের তালাক দিয়ে দেন, তবে হতে পারে তাঁর প্রতিপালক তাকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন—যারা হবে মুসলিম, মুমিন, অনুগতা, তওবাকারী, ইবাদতকারী, রোজা পালনকারী, অকুমারী ও কুমারী।” [সূরাহ আত-তাহরীম: ৫]
আয়াতে উল্লিখিত ‘সাইহাত’ (سائحات) শব্দ দ্বারা রোজা পালনকারী নারীদের বোঝানো হয়েছে। যখন এই মহান গুণগুলো কোনো নারীর মাঝে পূর্ণতা পায়, তখন সে তার সর্বসত্তা নিয়ে আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়; ফলে সে হয়ে ওঠে এক আদর্শ ঘরণী এবং দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সুগন্ধি বা ‘রায়হানাহ’।
পবিত্র কুরআনের অন্য এক স্থানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন নারী ও পুরুষের সমমর্যাদার কথা উল্লেখ করে কিছু সামষ্টিক গুণের বর্ণনা দিয়েছেন: “নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী নারী (মুসলিম ও মুসলিমা), মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থান হিফাজতকারী পুরুষ ও
