আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “আর তাদের পাশে থাকবে আনতনয়না ডাগরচক্ষু হুরগণ।” [সূরাহ আস-সাফফাত: ৪৮] অন্যত্র বলা হয়েছে: “তারা হলো হুর, তাঁবুসমূহে অবস্থানকারিনী।” [সূরাহ আর-রহমান: ৭২] এবং “তাদের জন্য সেখানে থাকবে পূত-পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২৫] এই আয়াতগুলো থেকে একজন আদর্শ স্ত্রীর যে তিনটি বিশেষ গুণের শিক্ষা পাওয়া যায়, তা নিম্নরূপ:
প্রথমত: আনতনয়না বা দৃষ্টির সংযম: নেককার স্ত্রীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো সে তার দৃষ্টিকে কেবল তার স্বামীর ওপরই সীমাবদ্ধ রাখবে। তার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে একমাত্র তার জীবনসঙ্গী। স্বামীর প্রতি তার সন্তুষ্টি ও অনুরাগ এমন গভীর হবে যে, অন্য কোনো পরপুরুষের প্রতি তার মনের কোনো কোণেও কোনো আসক্তি বা আগ্রহ অবশিষ্ট থাকবে না। জনৈক কবি স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এভাবে: “আমি মোর চোখের সকল তীর তোমার দিকেই রাখি ধরে, অন্য কারো দিকে যাওয়ার পথ তো আমার জানা নেই এ অন্তরে!”
দ্বিতীয়ত: গৃহচারিণী ও পর্দানশীনতা: কুরআনে জান্নাতী রমণীদের ‘তাঁবুতে অবস্থানকারিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি তাদের পবিত্রতার প্রতীক। নেককার স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য হলো, সে অকারণে বাইরে নিজেকে প্রদর্শন (تبرج) করে বেড়াবে না। সে তার সৌন্দর্য, লাবণ্য ও কমনীয়তা কেবল তার স্বামীর জন্যই সযতনে তুলে রাখবে। যে নারী নিজেকে পর্দার আড়ালে গহনার মতো লুকিয়ে রাখতে জানে, সেই নারীই প্রকৃত অর্থে স্বামীর হৃদয়ে আপন সিংহাসন তৈরি করতে পারে। তার এই আবরণ কেবল শরীরের নয়, বরং তা তার সতীত্ব ও আত্মমর্যাদারও প্রতিফলন।
তৃতীয়ত: পূত-পবিত্রতা: আদর্শ স্ত্রী হবেন দৈহিক অপবিত্রতা ও নোংরামি থেকে মুক্ত এবং স্বভাব-চরিত্রে হবে অত্যন্ত মার্জিত। তবে তার এই পবিত্রতা কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতায় সীমাবদ্ধ নয়; তার অন্তর হবে হিংসা-বিদ্বেষ, স্বামীকে কষ্ট দেওয়া, অহেতুক অভিযোগ করা কিংবা পরপুরুষের প্রতি মানসিক আসক্তির মতো যাবতীয় পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত। যখন কোনো নারী তার অন্তরকে বিশ্বাস ও পবিত্র ভালোবাসায় পরিপূর্ণ রাখে, তখনই সে তার স্বামীকে জান্নাতের শান্তি আস্বাদন করাতে পারে।
জান্নাতের এই হুরদের গুণাবলি অনুসরণ করে যারা নিজেদের গড়ে তোলেন, তারা কেবল দুনিয়াতেই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করেন না, বরং তারা জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখের অংশীদার হওয়ারও যোগ্যতা অর্জন করেন।
কুরআনের আলোকে নেককার নারীর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি
