তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সুরে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে বলবে— “আমরা অনিন্দ্য সুন্দরী হুর, আমাদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে মর্যাদাবান স্বামীদের জন্য।”
জান্নাতের পরিবেশ ও সেখানকার সক্ষমতা জাগতিক সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে। জান্নাতের প্রতিটি পুরুষকে মহান আল্লাহ তা‘আলা এক বিস্ময়কর শক্তি ও সামর্থ্য দান করবেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন: “জান্নাতের প্রতিজন পুরুষকে আহার, পানীয় এবং দাম্পত্য মিলনের ক্ষেত্রে একশত পুরুষের সমান শক্তি দেওয়া হবে।” সেখানকার শারীরিক প্রক্রিয়াও হবে অত্যন্ত নির্মল; পাকস্থলীর প্রয়োজন মেটানোর পর শরীরের ঘামের মাধ্যমেই সব পুষ্টি গৃহীত হবে এবং ঘাম ঝরে গেলেই পেট পুনরায় হালকা ও সতেজ হয়ে যাবে। [তাবারানী]
জান্নাতের এই মহান নিয়ামত ও অঢেল প্রাপ্তির বিষয়টি চিন্তাশীলদের জন্য পরম শিক্ষণীয়। অথচ এর মূল্য কতই না সহজলভ্য, যা কেবল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মী নবী; যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তু হারাম করেন।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ১৫৭]
এমন বিশাল জান্নাত পাওয়ার সুযোগ কি কোনো হঠকারী বা মূর্খ পাপাচারী ছাড়া আর কেউ হেলায় হারাতে পারে? রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত দরদভরা কণ্ঠে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন— “তোমাদের প্রত্যেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কেবল সে ছাড়া যে অস্বীকার করল।” সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে?’ তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বললেন— “যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো, সেই মূলত জান্নাতে যেতে অস্বীকার করল।” [সহীহ বুখারী] সুতরাং, জান্নাতের সেই চিরস্থায়ী সুধা ও হুরদের সোহাগ লাভের চূড়ান্ত পথ হলো—নবী (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ ও নির্দেশনার আলোকে জীবন অতিবাহিত করা।
নেককার স্ত্রীর গুণাবলী
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতী রমণীদের যে অনুপম গুণাবলির বর্ণনা দিয়েছেন, তা মূলত ধরাপৃষ্ঠে বসবাসরত মুমিন রমণীদের জন্য এক শাশ্বত আদর্শ। জান্নাতের সেই হুরদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করলে একজন নেককার ও আদর্শ স্ত্রীর তিনটি মৌলিক গুণের দিশা পাওয়া যায়, যা পারিবারিক জীবনকে প্রশান্তিময় ও স্বর্গীয় করে তোলে। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর ‘রওদাতুল মুহিব্বীন’ গ্রন্থে এই গুণাবলিকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
জান্নাতের হুরদের বর্ণনা দিতে গিয়ে

« <
/ 351
> »