সঙ্গী হিসেবে থাকবে নবযৌবনা, সমবয়সী রমণীগণ। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সাফল্য। উদ্যানসমূহ ও আঙুরলতা। আর নবযৌবনা সমবয়সী তরুণীগণ।” [সূরাহ আন-নাবা: ৩১-৩৩]
জান্নাতী এই রমণীদের বিশেষ গুণাবলি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আমি জান্নাতী রমণীদের বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের করেছি চিরকুমারী। তারা তাদের স্বামীদের প্রতি অতিশয় সোহাগিনী ও সমবয়সী।” [সূরাহ আল-ওয়াক্বিআহ: ৩৫-৩৭] এখানে ‘কাওয়াই‘ব’ (كواعب) শব্দটি দ্বারা এমন নবযৌবনা তরুণীদের বোঝানো হয়েছে, যাদের বক্ষদেশ উন্নত ও সুডৌল; যা ডালিমের ন্যায় আকর্ষণীয়। আরবী সাহিত্যে সৌন্দর্যের এই সুঠাম অবয়ব এক পরম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) ‘হাদীউল আরওয়াহ’-তে উল্লেখ করেছেন, এই সৃষ্টি প্রক্রিয়া তাদের উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ। আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) বলতেন: “নারী ততক্ষণ পূর্ণ সুন্দরী হয় না, যতক্ষণ না সে তার শিশুর প্রতি পূর্ণ মমতাময়ী এবং স্বামীর শয্যায় পরম সুখদায়ী হয়।” তেমনি ইবনে শুবরুমাহ (রহ.)-এর মতে, পুরুষের অঙ্গে বাগ্মিতার চেয়ে সুন্দর পোশাক যেমন নেই, নারীর অঙ্গেও স্বাস্থ্যজ্জ্বল লাবণ্যের চেয়ে বড় কোনো ভূষণ নেই।
জান্নাতী নারীদের ‘আরূব’ বা পরম সোহাগিনী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এরা এমন নারী, যারা স্বামীদের প্রেমে দেওয়ানা এবং একান্ত অনুগতা। কবি লবীদ তাদের এই মাধুর্যের বর্ণনায় লিখেছেন:
“শিবিকার ভেতরে রয়েছে এক সোহাগিনী নারী, যে কুরুচিপূর্ণ নয়;
তার রূপের ঝলকে চোখ ধাঁধিয়ে যায় এবং সে পরম লাবণ্যময়ী।”
তাদের রূপের স্বচ্ছতা ও শুভ্রতাকে চুনী (ইয়াকুত) ও প্রবালের (মারজান) সাথে তুলনা করা হয়েছে। ইবনে মাসঊদ (রা.) ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, জান্নাতী নারীরা যখন সত্তুরটি রেশমী পোশাক পরিধান করবে, তবুও তাদের পায়ের নলার শুভ্রতা সেই পোশাকের ভেতর দিয়ে দেখা যাবে। কারণ, ইয়াকুত এমন এক স্বচ্ছ পাথর, যার ভেতর দিয়ে সুতো প্রবেশ করালে বাইরে থেকে তা দৃশ্যমান হয়। তাদের অপর এক গুণ হলো ‘ক্বসিরাতুত্ব ত্বরাফ’ বা আনতনয়না; যারা তাদের দৃষ্টি কেবল তাদের স্বামীদের ওপরই সীমাবদ্ধ রাখবে। [সূরাহ আর-রহমান: ৫৬-৫৮]
এই রমণীদের পরিচয় দিতে গিয়ে কুরআন তাদের ‘হুর’ বলে অভিহিত করেছে। হুর হলেন সেই তরুণী, যার রূপ ও লাবণ্য দেখে চোখ ধাঁধিয়ে যায়; যার গায়ের রঙ অতি স্বচ্ছ এবং চোখের মণিটি গভীর কালো। তাদের চোখগুলো হবে অত্যন্ত সুন্দর ও বড়—যাকে বলা
