বিলাপ না করি। এক নারী তার হাত গুটিয়ে নিয়ে বলল, “অমুক নারী আমার বিপদের সময় আমাকে সাহায্য করেছিল, আমি তাকে এর প্রতিদান দিতে চাই।” রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বাধা দিলেন না। মহিলাটি তার কাজ শেষ করে ফিরে এলে তবেই তিনি বাইয়াত গ্রহণ করলেন। [সহীহ বুখারী] অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি শর্ত দিয়েছিলেন— “তোমরা তোমাদের স্বামীদের সাথে প্রতারণা করবে না।” এক নারী প্রশ্ন করল: “প্রতারণা কেমন?” তিনি বললেন: “স্বামীর অবর্তমানে তার সম্পদ নষ্ট করা।” আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে, তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন নারীরা জাহেলী যুগের মতো রূপচর্চা প্রদর্শন করে বেপর্দা হয়ে বাইরে না বেরোয়।
ইসলামের আগমনের পূর্বে নারী কোনো উল্লেখযোগ্য মর্যাদার অধিকারী ছিল না, যা উমর (রা.)-এর বিভিন্ন বর্ণনা থেকে স্পষ্ট। অথচ এই ইসলামই নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। একজন মনীষী যথার্থই বলেছিলেন— “যে হাত দিয়ে নারী দোলনা দোলায়, সেই হাত দিয়েই সে বিশ্ব কাঁপাতে পারে।” কারণ,
‘‘মা হলো একটি বিদ্যাপীঠ; যদি তুমি তাকে আদর্শরূপে গড়ে তোলো, তবে তুমি গড়ে তুললে এক সুসভ্য ও শ্রেষ্ঠ জাতি।’’
অবশ্যই এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী মৃত্যু বেছে নেবে তবু পাপে জড়াবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ব্যভিচার না করার অংশটি পাঠ করছিলেন, তখন আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “একজন স্বাধীন নারী কি কখনও ব্যভিচার করতে পারে?” তিনি দৃঢ়ভাবে বললেন: “না, আল্লাহর কসম!” কারণ, ইসলামের শিক্ষা ও মানুষের সহজাত রুচিবোধ তাকে পাপের কালিমা থেকে মুক্ত রাখে। হাদীসে এসেছে— “কোনো ব্যক্তির মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেওয়া অনেক শ্রেয় এমন কোনো নারীকে স্পর্শ করার চেয়ে, যে তার জন্য হালাল নয়।” [তাবারানী ও বায়হাকী]
পরিশেষে, ইবনে হাতেমের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই ঘোষণাটি প্রতিটি মুমিন নারীর হৃদয়ে আশা জাগায়: “যদি তোমরা এই অঙ্গীকার পূর্ণ করো, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।” এটিই হলো ইসলামের সুশীতল ছায়ায় নারীজীবনের সার্থকতা।
জান্নাতী রমণীদের রূপ-মাধুর্য ও নান্দনিক উৎকর্ষ
কুরআনের বর্ণনায় জান্নাতী রমণীদের রূপ-মাধুর্য
জান্নাতের নিগূঢ় সৌন্দর্য এবং এর অধিবাসীদের বর্ণনায় পবিত্র কুরআন কেবল পরকালের চিত্রায়নই করে না, বরং এটি মুমিনের হৃদয়ে এক অনন্য আকাঙ্ক্ষা ও বিনয়ের সঞ্চার করে। মুত্তাকীদের জন্য ঘোষিত সেই চিরস্থায়ী সফলতার উদ্যানগুলোতে যেখানে থাকবে আঙুরলতা ও প্রস্রবণ, সেখানেই তাদের
