অনুযায়ী আমল করেই অভূতপূর্ব সফলতার মুখ দেখেছিলেন। সুতরাং ওহীর নির্দেশে রাসূল (সা.)-এর এই বাইয়াত গ্রহণ প্রমাণ করে যে, নারী সমাজের এক সক্রিয় সদস্য এবং পুরুষের সহোদর; তার যেমন অধিকার আছে, তেমনই দায়িত্বও আছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) নারীদের এই বাইয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা ও শালীনতা বজায় রাখতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরত করে আসা মুমিন নারীদের ওপর এই আয়াতের শর্তগুলো পেশ করতেন। যারা শর্ত মেনে নিত, তাদের বলতেন: “আমি তোমার বাইয়াত গ্রহণ করলাম।” তাঁর এই গ্রহণ ছিল কেবল মৌখিক। আল্লাহর কসম! বাইয়াত গ্রহণের সময় তাঁর হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। এমনকি কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, সাহাবীগণ আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের সাথে করমর্দন করবেন না?” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন: “আমি নারীদের সাথে করমর্দন করি না।” [মুসনাদ আহমাদ]
ইসলামে বেগানা নারী-পুরুষের করমর্দন নিষিদ্ধ হওয়া দেখে আধুনিকতার দোহাই দেওয়া অনেকেই অবাক হতে পারেন; কিন্তু তারা ভুলে যান যে, বড় অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ থেকেই। হাতের ওপর হাতের চাপ অনেক সময় মনে কামনার বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে এবং মানুষকে পাপে প্রলুব্ধ করে। এই স্পর্শের নিভৃত আসক্তি ও পতন সম্পর্কে কবি কত চমৎকার বলেছেন:
“প্রথমে দেখা, তারপর হাসি, এরপর সালাম; তারপর কথা, অতঃপর প্রতিশ্রুতি এবং সবশেষে সাক্ষাৎ!”
এই পবিত্রতা ও সতর্কতার যৌক্তিকতা বোঝাতে একজন আল্লাহভীরু আলেমের ঘটনাটি প্রণিধানযোগ্য। এক অনুষ্ঠানে কোনো নারী করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে আলেম বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেন। নারীটি লজ্জিত হলে তিনি তাকে বললেন: “আমি সত্যি করে বলছি—যদি আমি আপনার সাথে করমর্দন করি এবং অনুভব করি যে আপনার হাত আমার স্ত্রীর হাতের চেয়ে বেশি নরম, তবে আমার স্ত্রীর মর্যাদা আমার চোখে কমে যাবে। আপনার ক্ষেত্রেও তাই; আপনি যদি আমার হাতের স্পর্শে আপনার স্বামীর হাতের চেয়ে ভিন্ন অনুভূতি পান, তবে আপনার স্বামীর গুরুত্বও আপনার চোখে কমে যেতে পারে। তার চেয়ে ভালো কি নয় যে আমরা একে অপরকে স্পর্শ না করি? এতেই আমরা নিজ নিজ জীবনসঙ্গীকে নিয়ে তৃপ্ত থাকতে পারব।”
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাইয়াত গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা যেন ‘নিয়াহাহ’ বা মৃতের শোকে উচ্চস্বরে
