এবং এই কবিতাটি আবৃত্তি করছে:
কবরে শুয়ে পড়ার পর সে আজ আমার শিয়রে এসেছে দেখা দিতে;
ঘুমের ঘোরে আমি যেন সেই গালটিতে চুমু খাচ্ছি, যা তার গ্রীবার সৌন্দর্যে ঝলমল করছে।
আমি বললাম—‘ওরে আমার চোখের মণি! তোমার মৃত্যুর সংবাদ তো আমাদের কাছে পৌঁছেছে,
তবে তুমি এখানে কীভাবে এলে? কবরের পথ তো রুদ্ধ!’
সে বলল—‘সেথা মোর অস্থিগুলো আজ মাটির নিচে লীন,
পোকা-মাকড় আর মাটির কীটরা তা কুরে কুরে খাচ্ছে প্রতিদিন।
এটি তো আমার আত্মা, যে তোমায় দেখতে এসেছে—
কবরে শায়িত এই অভাগীর শেষ দেখাটুকু আজ গ্রহণ করো ভালোবেসে।’
লোকটি ঘুম থেকে জেগে কবিতাটি মুখস্থ করে ফেলল। সে মানুষের কাছে এই কাহিনী শোনাত আর কবিতাটি আওড়াত। এরপর সে আর মাত্র কয়েকদিন জীবিত ছিল, তারপর সেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে প্রিয়ার সাথে মিলিত হলো।
মুআল্লা আত-তাঈ তার প্রিয়া ‘ওয়াসাফ’-এর মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে বলেছিলেন:
ওরে মৃত্যু! কীভাবে তুই আমার বুক থেকে ওয়াসাফকে ছিনিয়ে নিলি?
তাকে কবরে শুইয়ে দিয়ে আমাকে তো তুই আধা-মরা করে রেখে গেলি।
কেন তুই আমাদের দুজনকেই একসাথে নিয়ে গেলি না?
তার চলে যাওয়ার পর মৃত্যু তো আমার কাছে অনেক বেশি স্বস্তির ছিল।
যখন তুই ওয়াসাফকে মাটির গহ্বরে নিয়ে গেলি—
তখন তো তুই আমার দেহ থেকে আমার আত্মার অর্ধেকটাই কেড়ে নিলি।
এখন তবে বাকি অর্ধেকটাকেও নিয়ে যা, যার হাড়গুলো আজ জীর্ণ আর চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে।
ওরে মৃত্যু! তুই তো আমার কাউকেই বাকি রাখলি না;
আমার সেই প্রিয় মানুষটিকে আগে পাঠিয়ে আমাকে কেন পেছনে ফেলে রাখলি?
এক সুন্দরী তরুণীর যৌবনের ওপর কি তোর একটুও মায়া হলো না?
তোর নিষ্ঠুর হাত তো আমাকে চরম দুর্ভাগ্যে নিক্ষেপ করল।
ওরে মৃত্যু! তুই তো এমন এক শত্রু, যে প্রতিজন প্রেমিকের বুক থেকে—
তার অতি যত্নে লালিত প্রিয় মানুষটিকে কেড়ে নিতেই জানিস।
তুই আমাকে নিঃসঙ্গ করে তাকে নিয়ে এক অজানা দেশে চলে গেলি;
অথচ তোর আসার আগে আমি তো কখনো একাকীত্বের বোঝা বইনি।
আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে তুই এমন এক গর্তে রেখে এলি—
যেখানে বাতাস কেবল ধূলিকণাগুলোকেই উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।
তাকে তুই এমন এক অন্ধকার গহ্বরে একা শুইয়ে দিয়েছিস—
যার মাটি আজ তার মুখের সাথে কোলাকুলি করছে।
এমন
