যা শুনলে যেকোনো পাঠকের চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠবে।
পত্নী-বিয়োগে শোকগাথা রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত কবি ‘জারীর’। তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী একটি কবিতা লিখেছিলেন, যার কিছু অংশ এমন—
“লজ্জার ভয় না থাকলে আজ অশ্রুর বন্যা বইয়ে দিতাম,
উম্মুল হুয়াইরিসের বিদায়ে মোর কলিজা পুড়ে হয় ছারখার।
আমি তোমায় কবরে শুইয়ে দিয়েছি, যদিও প্রিয়তম তো দেখা করারই জিনিস—
আজ মাটি চাপা সেই প্রিয়তমা, হায় কী নিদারুণ এই শোকের ভার!
তোমার ছোট্ট শিশুরা আজ দিশেহারা, তাদের কান্না কে থামাবে?
যার দিকে কেউ ফিরেও দেখে না, তার ডাক কি আজ কবরে পৌঁছাবে?
ঝরনা ধারার মতো ঝরা এই অশ্রু—কে দেবে আজ থামিয়ে?
দিনভর তার বিচ্ছেদে কেঁদে মরি, শোকের মাতম নামিয়ে।
অন্ধকারে একা একা যখন ঘর আগলে বসে থাকি,
চতুষ্পার্শ্বে তাকিয়ে দেখি—আর তো নেই কেউ বাকি।
ভাগ্যের এ কেমন পরিহাস, কী এক শূন্যতায় বুক হাহাকার করে—
মনে হয় এর চেয়ে মৃত্যুও ভালো ছিল মোর তরে!”
কবি আবু তাম্মাম তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে গেয়েছেন:
এমন এক রূপসীর বিচ্ছেদে আমি আজ শোকাতুর, যার বিরহে বাকিটা জীবন আমি ধূসর হয়ে কাটাব;
আমি এখন কেবলই বিলাপের সাথী, তার সান্নিধ্যের সেই সোনালী সময়গুলোর কথা ভেবে আজীবন কাঁদব।
যে সুখের লাগামটি আমার হাতে ছিল, আজ আমার সেই প্রিয়া বিদায় নেওয়ায়—
নিয়তি যেন আমার হাত থেকে সেই লাগামটি চিরতরে ছিনিয়ে নিয়েছে।
রজনীর অন্ধকারকে আমি আপন করে নিয়েছি বিচ্ছেদের ব্যথায়;
এখন আর কোনো সুশ্রী মুখ আমার ভালো লাগে না, কোনো রূপসীই আর আমার হৃদয়ে দোলা দেয় না।
লোকে বলে—‘এক ললনার শোকে পুরুষ কি আর চিরকাল কাঁদে?
মন চাইলে তো তার বদলে এমন দশজনকে আনা যায়!’
আমি বলি—মানুষ কি তার একটি হাতের কবজির বদলে দশটি আঙুল পেতে চায়?
যদিও সেই আঙুলগুলো খাঁটি রুপো দিয়ে গড়া হয়, তবুও কি তা হাতের অভাব মেটায়?
বিখ্যাত বীর যোদ্ধা ও কবি সামী পাশা আল-বারুদী তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে এই পঙক্তিগুলো লিখেছেন। যখন স্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি লঙ্কা দ্বীপে (শ্রীলঙ্কা) নির্বাসিত ছিলেন:
ওরে নির্দয় মৃত্যু! এ কোন অনল তুই আমার হৃদয়ে জ্বালিয়ে দিলি?
কোন আগুনের শিখা দিয়ে তুই আমার অন্তরকে ভস্মীভূত করলি?
যে সংকল্প একটি বিশাল বাহিনীকে
