পাষাণহৃদয় স্বামীর মন একটু নরম হয়, তাদের বিবেক জাগ্রত হয় এবং ‘স্ত্রী’ নামক এই সুন্দর সৃষ্টি, বিশ্বস্ত সঙ্গী আর মায়াবী মানুষটির প্রতি তাদের আবেগ ও মমতা উথলে ওঠে। অনেক সময় পুরুষ তার স্ত্রীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এবং এমনকি তার ওপর জুলুমও করে থাকে।
অতঃপর দীর্ঘকাল সংসার করার পর স্ত্রী যখন একদিন মরে যায়, তখন স্বামী তার চারপাশের শূন্যতা অনুভব করে হাহাকার করে ওঠে। সন্তানদের নিয়ে ডুকরে কেঁদে মরা-মাশম (শোকসভা) বসায়। কিন্তু সেই কান্নাকাটি আর বিলাপ তখন কোনো কাজে আসে না। অনুশোচনা তখন বৃথা—যখন সুন্দর এই বুলবুলিটি খাঁচা ছেড়ে উড়ে গেছে। অথচ এই মানুষটিই ঘরকে কলকাকলিতে ভরিয়ে রাখত, নিজের রূপ ও মাধুর্য দিয়ে সাজিয়ে রাখত আর মমতা ও রসিকতা দিয়ে স্বামীকে চনমনে রাখত।
বলা হয়, এক নেককার ব্যক্তি নিজের ঘরে একটি বড় সিন্দুক রেখেছিলেন। যখনই তাঁর মন কঠোর হয়ে যেত এবং তিনি আল্লাহকে ভুলে যেতেন, তখন তিনি নিজেকে সেই সিন্দুকের ভেতর ঢুকিয়ে নিতেন। কবরের অন্ধকার ও একাকীত্ব কল্পনা করতেন। যখন দম বন্ধ হয়ে আসত, তখন চিৎকার করে বলতেন: “হে আমার রব! আমাকে দুনিয়ায় ফেরত পাঠান, যেন আমি নেক আমল করতে পারি!” [সূরাহ আল-মুমিনূন: ৯৯-১০০]। এরপর তিনি সিন্দুক খুলে বেরিয়ে আসতেন এবং মৃত্যুকে স্মরণ করে নিজের আচরণ সংশোধন ও ইবাদত বাড়িয়ে দিতেন।
আমিও কঠোর ও আবেগহীন স্বামীদের সামনে এমন কিছু কবিতা তুলে ধরতে চাই, যা কবিরা তাঁদের মৃত স্ত্রীদের স্মরণে অশ্রু ও দীর্ঘশ্বাস মিশিয়ে লিখেছেন। এটি পড়ে স্বামীরা কল্পনা করুন—যদি আজ তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চিরবিদায় নিতেন, তবে এই সুন্দর ঘরটি কতটা অন্ধকার হয়ে যেত! দুনিয়াটা তাঁর কাছে কতটা সংকীর্ণ হয়ে পড়ত! তখন তিনি স্রষ্টার কাছে মিনতি করতেন যেন তাঁর জীবনসঙ্গিনীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই কল্পনার মাধ্যমেই তিনি একটি অমূল্য শিক্ষা পাবেন এবং জীবিত স্ত্রীর সাথে নমনীয় ও সদ্ভাব বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ হবেন।
কবিতাগুলো উল্লেখ করার আগে আমি পাঠকের নজরে একটি বিষয় আনতে চাই। প্রাচীন আরবরা—তাদের কঠোর হৃদয়ের কারণে—স্ত্রীর জন্য শোক প্রকাশ করা কিংবা তার কবরে যাওয়াকে দোষের মনে করত। কিন্তু উচ্চমার্গের আবেগ ও উন্নত রুচিবোধের অধিকারীরা সেই বর্বর প্রথা ভেঙে স্ত্রীর বিরহে এমন সব কবিতা লিখেছেন,
