মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: “নারী সৃষ্টি হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে; সে কখনোই তোমার জন্য একটি সোজা পথে স্থির থাকবে না। সুতরাং তুমি যদি তাকে ভোগ করতে চাও, তবে তার মধ্যকার এই বক্রতা নিয়েই তোমাকে তা করতে হবে। আর যদি তুমি তাকে সোজা করতে যাও, তবে তাকে ভেঙে ফেলবে; আর তাকে ভেঙে ফেলার অর্থ হলো তাকে তালাক দেওয়া।”
এই হাদীসটি আমাদের সতর্ক করে যে, তুচ্ছ কারণে বা স্বভাবের অমিলের দোহাই দিয়ে বিচ্ছেদের পথে হাঁটা মোটেও সমীচীন নয়। ‘তুহফাতুল আরূস’ গ্রন্থের লেখক এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন—নবী (সা.) এখানে নারীদের সাথে কোমল আচরণ ও সমঝোতা করে চলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের স্বভাবজাত ত্রুটি বা মেজাজের বক্রতাকে বড় করে দেখা উচিত নয়; কারণ এতে কেবল বিচ্ছেদের পথই প্রশস্ত হয়। জনৈক কবি এই নববী দর্শনের গভীরতাকে কাব্যে এভাবে তুলে ধরেছেন:
“সে তো এক বক্র পাঁজর, সোজা করা কভু যাবে না তারে,
মনে রেখো—পাঁজরের হাড় সোজা করতে গেলেই সে ভেঙে পড়ে।
অবলা নারী, তবু কী আশ্চর্য তার শক্তির আধার—
বীর পুরুষের ওপরও চলে তার কোমল হৃদয়ের প্রবল ক্ষমতা আর অধিকার!”
আল্লাহর আমানত: স্ত্রীর প্রতি দায়বদ্ধতা
স্ত্রীর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে মুমিনকে সর্বদা আখেরাতের জবাবদিহিতার কথা স্মরণ রাখতে হবে। বিদায় হজ্জের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালেমার মাধ্যমেই তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছ।” [সহীহ মুসলিম]।
এই হাদীসটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্ত্রী কেবল একজন জীবনসঙ্গিনী নন, বরং তিনি আল্লাহর দেওয়া এক মহান আমানত। আমানতকারীর দায়িত্ব হলো সেই আমানতের যথাযথ যত্ন নেওয়া এবং তার ওপর কোনো প্রকার জুলুম না করা। যে পুরুষ তার স্ত্রীকে আল্লাহর আমানত মনে করে, সে কখনোই সামান্য কারণে তার ওপর চড়াও হতে পারে না কিংবা তাকে তালাকের মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে না। দাম্পত্যের এই পবিত্র বন্ধন রক্ষা করাই হলো প্রকৃত ঈমানদারির পরিচয়।
পত্নী-বিয়োগে কবিদের শোকগাঁথা
পাঠক হয়তো ‘তুহফাতুল আরূস’-এর মতো একটি (দাম্পত্য বিষয়ক) বইয়ে এই শোকের আলোচনা দেখে কিছুটা অবাক হতে পারেন। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য হলো—যাতে কিছু
