পারবে। এটি নারীকে উগ্র প্রমাণ করার জন্য নয়, বরং পুরুষকে তার অবাস্তব স্বপ্নের জগত থেকে বের করে এনে কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার শিক্ষা। নারীর মাঝে ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। এ কারণেই নবী (সা.) বলেছেন: “কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে; তার একটি স্বভাব অপছন্দ হলেও অন্যটি তাকে মুগ্ধ করবেই।”
প্রশ্ন উঠতে পারে: আল্লাহ তা‘আলা নারীকে এমন স্বভাব দিয়ে কেন সৃষ্টি করলেন? এর উত্তর নিহিত রয়েছে তাঁর ওপর অর্পিত মহান দায়িত্বের মাঝে। আল্লাহ নারীর ওপর গর্ভধারণ, স্তন্যদান ও সন্তান লালন-পালনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর মধ্যে এমন কিছু আবেগ থাকা প্রয়োজন যা পুরুষের স্বভাব থেকে ভিন্ন। একজন সচেতন পুরুষ যখন এই বাস্তবতা বুঝতে পারেন, তখন তিনি স্ত্রীর এই স্বভাবকে মেনেই দাম্পত্য উপভোগ করেন। কিন্তু যে পুরুষ অবুঝ, সে স্ত্রীকে নিজের ছাঁচে গড়ে তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হয় এবং অবশেষে সংসার ধ্বংস করে ফেলে।
মাতৃত্ব ও কোমলতা: বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নারী
ডক্টর ফ্রেডরিক কেন তাঁর ‘আওয়ার সেক্সুয়াল লাইফ’ গ্রন্থে নারীর এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে অত্যন্ত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন:
“নারীর অবয়বে যেমন শিশুসুলভ কোমলতা থাকে, তেমনি তার স্বভাব ও মানসিকতায়ও সেই ছাপ রয়ে যায়। সে যদি শিশুর মতো এমন কোমল না হতো, তবে সে কখনোই একজন সফল মা হতে পারত না। সে তার এই শিশুসুলভ অনুভূতির কারণেই সন্তানের চাহিদা বুঝতে পারে; যেখানে পুরুষ তার যুক্তি ও মানসিক বিবর্তনের কারণে শিশুর জগত থেকে দূরে সরে যায়। নারী সব সময় আবেগপ্রবণ এবং সাড়া প্রদানকারী। তার যুক্তির চেয়ে মমতা বেশি, আর বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার চেয়ে তার অন্তর্দৃষ্টি বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বেশি সজাগ। প্রকৃতি তাকে স্বামী ও সন্তানের মধ্যবর্তী একটি স্থানে রেখেছে, যাতে সে পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন রুচির সদস্যদের মাঝে এক অপূর্ব ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে!”
পরিশেষে বলা যায়, নারীর এই বিশেষ স্বভাব বা তথাকথিত ‘বক্রতা’ কোনো ত্রুটি নয়, বরং এটিই পুরুষের জন্য পরম তৃপ্তি, সৌন্দর্য এবং প্রশান্তির আধার। এই সৃষ্টিগত বৈচিত্র্যকে মেনে নেওয়াই হলো সুখী দাম্পত্যের প্রথম ধাপ।
দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার নববী কৌশল ও বিচ্ছেদ রোধ
নারীর স্বভাবজাত বক্রতাকে মেনে নিয়ে সংসার পরিচালনা করাই হলো বুদ্ধিমান স্বামীর কাজ। সহীহ
