যাবে এবং দুজনের মন প্রফুল্ল হবে, তখন সুযোগ বুঝে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও মার্জিতভাবে তাকে বুঝিয়ে বলুন। সেই মুহূর্তে আপনি তাকে শাসিত হিসেবে নয়, বরং একজন দরদী অভিভাবক হিসেবে সঠিক নির্দেশনা দেবেন। পুরুষ অধিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির চিন্তার অধিকারী; তাই তার দায়িত্ব হলো পরিবারকে পরিচালিত করা।
গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস বিয়ে করার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা এক যুবককে কত চমৎকার পরামর্শই না দিয়েছিলেন! তিনি বলেছিলেন: “যাই হোক, তুমি বিয়েটা করে ফেলো। যদি ভালো স্ত্রী পাও, তবে তুমি সুখী হবে। আর যদি কপাল খারাপ হয় এবং বদমেজাজী স্ত্রী জোটে, তবে তুমি দার্শনিক (বা মহাজ্ঞানী) হয়ে উঠবে। মানুষের জন্য উভয় ফলাফলই কল্যাণকর!”
নারীর প্রতি ওসিয়ত ও সৃষ্টিগত রহস্যের উপলব্ধি
ইসলামি জীবনদর্শনে নারীর অধিকার ও সম্মানের বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গভীর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন: “এবং তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো।” [সূরাহ আন-নিসা: ১৯]। এই সদ্ভাবে বসবাসের মূল সূত্রটি রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর এক বিখ্যাত ওসিয়তে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আমার ওসিয়ত (উত্তম উপদেশের) গ্রহণ করো। কেননা নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে। আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁকা হলো ওপরের অংশটি। তুমি যদি তাকে সোজা করতে যাও তবে তা ভেঙে ফেলবে, আর যদি ছেড়ে দাও তবে তা সব সময় বাঁকাই থেকে যাবে। অতএব নারীদের সাথে সদাচরণের ব্যাপারে আমার ওসিয়ত কবুল করো!” [সহীহ বুখারী]।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) তাঁর ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ গ্রন্থে এই হাদীসের গূঢ় মর্ম ব্যক্ত করতে গিয়ে লিখেছেন—নারীদের স্বভাবের মধ্যে কিছুটা বক্রতা বা জটিলতা থাকাটা সৃষ্টিগতভাবেই অনিবার্য। সুতরাং একজন পুরুষ যদি সুখী দাম্পত্য চায়, তবে তাকে ছোটখাটো বিষয়ে ছাড় দিতে হবে এবং নিজের পছন্দের বাইরে কিছু দেখলে রাগ সংবরণ করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, আত্মমর্যাদা বা শরীয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হলে সে ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।
বাস্তবতা বনাম কল্পনা: দাম্পত্য সুখের চাবিকাঠি
‘আল-মারআতু বাইনাল বাইতি ওয়াল মুজতামাউ’ গ্রন্থে এই নববী শিক্ষার এক চমৎকার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। নবীজী (সা.)-এর উক্তি—“তুমি যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে বক্রতা থাকা অবস্থাতেই তাকে নিয়ে জীবন উপভোগ করতে পারবে”—এর অর্থ হলো, স্ত্রীর কিছু অপ্রিয় আচরণ এড়িয়ে চললে স্বামী শান্তিতে সংসার করতে
