তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

এক ধরণের প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে মানুষ প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করার ও বিজ্ঞতার সাথে ঘর পরিচালনার কৌশল শেখে। এটিও বিবাহের অন্যতম একটি বড় সুফল।
নবীজী (সা.)-এর ঘরোয়া জীবনেও আমরা এর অসামান্য উদাহরণ দেখতে পাই। তাঁর পবিত্র সহধর্মিণীগণ কখনো কখনো তাঁর সাথে তর্ক করতেন, এমনকি কেউ কেউ অভিমান করে রাত পর্যন্ত কথা বলা বন্ধ রাখতেন। একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) ও আয়েশা (রা.)-এর মধ্যে কোনো বিষয়ে বাদানুবাদ হলে আবূ বকর (রা.)-কে মীমাংসার জন্য ডাকা হলো। নবীজী আয়েশাকে বললেন: “তুমি কি আগে কথা বলবে, নাকি আমি বলব?” আয়েশা (রা.) স্বভাবসুলভ অভিমান থেকে বললেন: “আপনিই বলুন, তবে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলবেন না!” এই কথা শুনে আবূ বকর (রা.) প্রচণ্ড রেগে গিয়ে মেয়ের মুখে সজোরে চড় মারলেন—যাতে তাঁর মুখ রক্তাভ হয়ে উঠল। তিনি বললেন: “ওরে নিজের শত্রু! তিনি কি কখনো সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলেন?” তখন আয়েশা (রা.) আত্মরক্ষার্থে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। নবী (সা.) তৎক্ষণাৎ আবূ বকর (রা.)-কে থামিয়ে দিয়ে বললেন: “আমরা আপনাকে এই কাজের (মারধর করার) জন্য ডাকিনি এবং আপনার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি!” [সহীহ বুখারী]।
এমনকি আয়েশা (রা.) একবার রাগান্বিত হয়ে নবীজীকে বলেছিলেন— “আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করেন?!” রাসূলুল্লাহ (সা.) এই কঠিন কথা শুনেও উত্তেজিত হননি, বরং মৃদু হাসলেন এবং অত্যন্ত সহনশীলতা ও উদারতার সাথে তা সহ্য করে নিলেন। [সহীহ বুখারী]।
রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও সংশোধন পদ্ধতি
স্ত্রীর প্রতি ধৈর্যশীল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, স্বামী হাত গুটিয়ে বসে থাকবে আর স্ত্রী অনবরত অন্যায় করে যাবে। বরং উদ্দেশ্য হলো—তাকে অত্যন্ত নম্রতা ও শান্তভাবে সংশোধন করা। যখন নারী উত্তেজিত থাকে, তখন আগুনের বিপরীতে আগুন হওয়া চলবে না। সেই মুহূর্তে ধৈর্য ধরাই হলো শ্রেষ্ঠ পথ। কারণ রাগান্বিত ব্যক্তির অবস্থা মাতালের মতো—সে কী বলছে বা করছে তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। সেই মুহূর্তে শয়তান তাকে কাবু করে ফেলে। তাই শয়তানকে সাহায্য না করে বরং অপরপক্ষের উচিত দয়া ও মায়ার দৃষ্টিতে তাকানো। ক্রোধ প্রশমিত হওয়ার পর সেই ব্যক্তি নিজেই লজ্জিত হবে। কিন্তু রাগের বদলে রাগ দেখালে শত্রুতা বাড়ে এবং সংসার ভেঙে তছনছ হয়ে যায়।
যখন ক্ষোভের মেঘ কেটে

« <
/ 351
> »