তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

[সহীহ বুখারী ও তিরমিযী]। আলী (রা.)-কে ফাতেমাহ (রা.)-এর সাথে বিয়ের সময় নবীজী (সা.) এক অনন্য ওসিয়ত করেছিলেন— “সে তোমারই হবে, তবে শর্ত হলো তার সাথে সুন্দর আচরণ করতে হবে।” [তাবারানী]।
সাফিয়্যাহ (রা.)-এর সাথে বাসর ও মদীনার পথে ফেরার সময় নবী (সা.)-এর আচরণ ছিল অত্যন্ত মর্যাদাশীল। তিনি নিজের চাদর দিয়ে সাফিয়্যাহ (রা.)-এর বসার জায়গাটি আরামদায়ক ও পর্দানশীল করে দিয়েছিলেন। এমনকি তিনি উটের পাশে হাঁটু পেতে বসতেন, যাতে সাফিয়্যাহ (রা.) নবীর হাঁটুর ওপর পা রেখে আরোহণ করতে পারেন। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, পরিবারের সদস্যদের প্রতি সেবা ও মমতা প্রদর্শন করা কেবল মানবিকতা নয়, বরং এটিই হলো পূর্ণাঙ্গ ঈমানের পরিচয়।
অপছন্দের জীবনসঙ্গীর সাথে মুমিনের আচরণ
দাম্পত্য জীবনে সর্বদা সবকিছু মনের মতো হবে—এমনটি প্রত্যাশা করা অবাস্তব। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আমরা যা অপছন্দ করি, হতে পারে তা-ই আমাদের জন্য কল্যাণকর। [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২১৬]। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই কল্যাণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য মুমিন পুরুষদের বিশেষ নসিহত করেছেন। তিনি বলেছেন: “কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে (স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। যদি সে তার কোনো একটি স্বভাব অপছন্দ করে, তবে তার অন্য কোনো স্বভাব দেখে নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট হবে।” [সহীহ মুসলিম]।
এই মহান হাদীসটি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্যই একটি অপরিহার্য মূলনীতি। প্রখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী (রহ.) এ কারণেই বলতেন— “তোমার কন্যাকে কোনো দ্বীনদার পাত্রের কাছে বিয়ে দাও। কারণ সে যদি তাকে ভালোবাসে তবে তাকে সম্মান করবে, আর যদি অপছন্দ করে তবে অন্তত তার ওপর জুলুম করবে না!” মনে রাখা প্রয়োজন, পূর্ণতা কেবল মহান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। কবি যথার্থই বলেছেন:
“এমন কে আছে যার প্রতিটি স্বভাবই পছন্দনীয়? মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তার দোষগুলো আঙুলে গুনে শেষ করা যায়!”

সহনশীলতা ও সমঝোতার শিল্প
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অধিকাংশ অশান্তির মূল কারণ হলো পরস্পরের কাছ থেকে ‘নিখুঁত সুখ’ প্রত্যাশা করা। অনেক স্বামী স্বার্থপরের মতো কেবল নিজের সুখটুকুই খোঁজেন, অথচ সঙ্গিনীকে সুখী করার কথা ভাবেন না। অথচ দেওয়ার মাঝে যে পাওয়ার চেয়েও বড় তৃপ্তি নিহিত আছে, তা তারা ভুলে যান। দাম্পত্য জীবনে পদে পদে নানা বাধা ও তিক্ততা আসবেই;

« <
/ 351
> »