জীবনের বরকতময় শুরু—যেখানে আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়।
ওলীমার আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া ও এর সামাজিক তাৎপর্য
ওলীমার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিবাহকে প্রচার করা এবং বিয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের একত্রিত করা। এতে সবার মনে আনন্দ সঞ্চার হয় এবং বর-কনের সাথে সৌজন্য বিনিময় ও দোয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদ্যতা বৃদ্ধি পায়। শরীয়ত এই সামাজিক বন্ধনের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন: “…তবে যখন তোমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় তখন তোমরা প্রবেশ করো, আর খাওয়া শেষ হলে তোমরা চলে যেয়ো।” [সূরাহ আল-আহযাব: ৫৩]। আয়াতের শেষাংশের তাৎপর্য হলো, খাবার শেষ হওয়ার পর অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ আলাপ না করে বিদায় নেওয়া উচিত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সামাজিক শিষ্টাচারকে ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কাজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: “তোমরা বন্দীদের মুক্ত করো, আমন্ত্রণকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করো।” [সহীহ বুখারী]। অন্য বর্ণনায় নবী (সা.) আরও স্পষ্ট করেছেন: “তোমাদের কাউকে যখন খাবারের দাওয়াত দেওয়া হয়, সে যেন তাতে সাড়া দেয়। যদি সে রোজা না থাকে তবে যেন আহার করে, আর যদি রোজা থাকে তবে যেন (বরকতের) দোয়া করে।” [সহীহ মুসলিম ও মুসনাদ আহমাদ]।
ওলীমার ডাকে সাড়া দেওয়া কতটা জরুরি, তা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর একটি ঘটনা থেকে বোঝা যায়। একবার তিনি একজনকে খাবারের দাওয়াত দিলে সেই ব্যক্তি আসতে অপারগতা প্রকাশ করে। তখন ইবনে উমর (রা.) তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন— “তোমার কোনো মাফ নেই, ওঠো এবং চলো!” অর্থাৎ কোনো সংগত ওজর ছাড়া ওলীমার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।
ওলীমার সাদামাটা আয়োজন ও নববী আদর্শ
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়কার ওলীমার আয়োজন ছিল সম্পূর্ণ লৌকিকতা বর্জিত ও অত্যন্ত সাদামাটা। বর্তমান যুগের মতো কৃত্রিম জৌলুস বা লোকদেখানো আড়ম্বর তখন ছিল না। অথচ আজকের দিনে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে, যা নবদম্পতির দাম্পত্য সুখের শুরুতেই অশান্তি ডেকে আনে। ওলীমার খাবার যেকোনো সহজলভ্য খাবার দিয়েই হতে পারে। এমনকি ছাগল জবাই করা সম্ভব না হলেও মাংস বা রুটি ছাড়াও ওলীমা সম্পন্ন করা জায়েজ।
এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যাহ (রা.)-এর বিয়ের ঘটনায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাথে বাসর
