সাথে একান্তে থাকতেন, তখন তাঁদের সাথে অত্যন্ত প্রফুল্ল ও হাসিখুশি থাকতেন। এমনকি উম্মুল মুমিনীনদের মাঝেও সুন্দর খুনসুটি চলত। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন—একবার তিনি সওদা (রা.)-এর মুখে ‘হারীরা’ (এক ধরণের খাবার) মাখিয়ে দিলেন, পাল্টা সওদাও আয়েশার মুখে খাবার মাখিয়ে দিলেন; আর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের এই নির্মল আনন্দ দেখে হাসছিলেন। [সুনান আবী দাউদ]
সাহাবীদের ভারসাম্যপূর্ণ জীবন
রসিকতা কেবল নববী জীবনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সাহাবীগণের মাঝেও এর প্রচলন ছিল। সহীহ বুখারীর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ একে অপরের দিকে তরমুজ ছুঁড়ে রসিকতা করতেন; কিন্তু যখন সিরিয়াস বা হাকীকতের সময় আসত, তখন তাঁরাই ছিলেন বীর পুরুষ।
এটি আমাদের শেখায় যে, মুমিনের জীবন কেবল শুষ্ক বা নিরস নয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—তা যুদ্ধক্ষেত্র হোক কিংবা দাম্পত্য শয়নকক্ষ—ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো সুন্নাহ। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে এই ধরণের প্রাণবন্ত কৌতুক ভালোবাসা ও মমতা বৃদ্ধিতে জাদুর মতো কাজ করে।
ওলীমার আবশ্যকতা ও নববী নির্দেশনা
ইসলামী শরীয়তে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর আনন্দ উৎসবের অংশ হিসেবে আত্মীয়-স্বজন ও অভাবীদের আপ্যায়ন করা তথা ‘ওলীমা’ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এটি বিয়ের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। বুরায়দাহ ইবনুল হাসীব (রা.) বর্ণনা করেছেন—আলী (রা.) যখন ফাতেমাহ (রা.)-কে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন: “বিয়ের জন্য ওলীমা (ভোজ) অবশ্যই প্রয়োজন।” [মুসনাদ আহমাদ; হাদীসটি সহীহ]। এই নির্দেশ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সামর্থ্য অনুযায়ী ওলীমা করা নববী আদর্শের অংশ।
ওলীমার গুরুত্ব কতখানি, তা আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর একটি ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন তাঁর শরীরে হলুদ রঙের চিহ্ন অর্থাৎ জাফরানের ঘ্রাণ দেখে জিজ্ঞেস করলেন: “এটি কী?” তিনি উত্তরে জানালেন: “আমি এক আনসারী নারীকে এক ‘নাওয়াত’ (খেজুরের আঁটি পরিমাণ) ওজনের স্বর্ণ মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছি।” নবী (সা.) তাঁর বিয়ের খবর শুনে খুশি হয়ে বরকত কামনা করলেন এবং নির্দেশ দিলেন: “আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন! একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওলীমা করো।” [সুনান আরবাআ ও সহীহ বুখারী-মুসলিম]।
এই হাদীসগুলো আমাদের শেখায় যে, ওলীমা হতে হবে সাধ্যের মধ্যে এবং লৌকিকতামুক্ত। এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ মোহর দেওয়ার সামর্থ্য যেমন ছিল, তেমনি নবীজী (সা.) তাকে একটি ছাগল জবাই করে হলেও ভোজের আয়োজন করতে বলেছেন। এটিই হলো দাম্পত্য
