নামটুকুই মুখে আনা বন্ধ করেন, কিন্তু অন্তরের প্রেম সর্বদা অটুট থাকে।
নববী প্রেম ও দৌড় প্রতিযোগিতা: দাম্পত্যের অনন্য শিক্ষা
দাম্পত্য জীবনকে নিরস বা একঘেয়ে শিকল থেকে মুক্ত রাখতে নবীজী (সা.) মাঝে মাঝে খেলাধুলায় মেতে উঠতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, একবার এক সফরে তিনি কিশোরী অবস্থায় নবীজীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতে গিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর আয়েশা (রা.)-এর শরীরে মেদ বৃদ্ধি পায় (হামালতুল লাহম)। অন্য এক সফরে নবীজী সাহাবীদের আগে চলে যেতে বলে আয়েশা (রা.)-কে পুনরায় দৌড় প্রতিযোগিতার আহ্বান জানালেন।
আয়েশা (রা.) তাঁর ভারী শরীর নিয়ে দৌড়াতে ইতস্তত করলেও নবীজী (সা.) বললেন, “তোমাকে দৌড়াতেই হবে।” এবার নবীজী আগে চলে গেলেন এবং হাসতে হাসতে বললেন, “এটি সেই আগের বারের প্রতিশোধ (অর্থাৎ ১-১ সমতা)!” এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নবীজী (সা.) শিখিয়েছেন যে, জীবনসঙ্গীর সঙ্গ উপভোগ করা এবং মাঝে মাঝে চটুল কাজে লিপ্ত হওয়া প্রশংসনীয়; যাতে দাম্পত্য জীবন প্রাণবন্ত থাকে।
নববী রসিকতা ও আয়েশা (রা.)-এর চটজলদি উত্তর
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরোয়া জীবন ছিল আনন্দ ও কৌতুকপূর্ণ। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, একবার নবী (সা.) কোনো এক যুদ্ধ (তাবুক বা হুনাইন) থেকে ফিরে এলেন। আয়েশা (রা.)-এর প্রকোষ্ঠের সামনের দিকে ‘সাহওয়াহ’ (سهوة) অর্থাৎ একটি ছোট কক্ষ বা কুলুঙ্গির মতো অংশে পর্দা ঝুলানো ছিল। বাতাসের ঝাপটায় পর্দার এক পাশ সরে গেলে আয়েশা (রা.)-এর খেলার পুতুলগুলো দেখা গেল।
নবী (সা.) কৌতুকভরে জিজ্ঞেস করলেন: “হে আয়েশা! এগুলো কী?” তিনি উত্তর দিলেন: “আমার মেয়ে (পুতুল)!” নবী (সা.) পুতুলগুলোর মাঝে কাপড়ের তৈরি ডানাওয়ালা একটি ঘোড়া দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন: “এগুলোর মাঝে এই যে জিনিসটি দেখা যাচ্ছে, এটি কী?” আয়েশা (রা.) বললেন: “ঘোড়া।” নবী (সা.) হাসিমুখে বললেন: “ঘোড়ার আবার ডানা থাকে নাকি?!” আয়েশা (রা.) দমে না গিয়ে চটজলদি উত্তর দিলেন: “আপনি কি শোনেননি যে সুলায়মান (আ.)-এর ডানাওয়ালা ঘোড়া ছিল?” এই বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ উত্তর শুনে রাসূল (সা.) এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল। [সুনান আবী দাউদ; হাদীসটি সহীহ]
প্রফুল্ল ও প্রাণবন্ত দাম্পত্য জীবন
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রসিক। আল্লামা মুনাবী (রহ.) ‘ফয়জুল ক্বাদীর’-এ এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ তিনি যখন তাঁর পরিবার বা স্ত্রীদের
