তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

রাখতে হয়। এর বিপরীতে এক আধুনিক দম্পতির গল্প শুনুন—স্বামী একটি আপেলে কামড় দিয়ে তার কিছু অংশ খেয়ে স্ত্রীকে দিলেন। স্ত্রী একটি ছুরি নিয়ে সেই কামড় দেওয়া অংশটুকু কেটে ফেলতে চাইলেন। স্বামী যখন জিজ্ঞেস করলেন তিনি কী করছেন, স্ত্রী উত্তর দিলেন— “আপনার দাঁতের চিহ্নটুকু ফেলে দিচ্ছি।” স্বামী তৎক্ষণাৎ তাকে তালাক দিয়ে দিলেন! নবীজীর সুন্নাহ অনুসরণ করলে দাম্পত্য জীবনে এমন তিক্ততা আসার অবকাশ থাকে না।
প্রিয়তমার নাম সংক্ষেপ করে সোহাগ করা
দাম্পত্য জীবনে ছোট ছোট খুনসুটি ও নামের সংক্ষেপণ ভালোবাসার গভীরতা বাড়িয়ে দেয়। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) আয়েশা (রা.)-কে সোহাগ করে ডাকতেন। তিনি বললেন: “ওহে আইশ! এই যে জিবরীল (আ.) তোমাকে সালাম জানিয়েছেন।” আয়েশা (রা.) বললেন: “তাঁর ওপরও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। (হে আল্লাহর রাসূল!) আপনি তো তা দেখতে পান যা আমি দেখতে পাই না।” এখানে ‘আইশ’ হলো আয়েশা নামের সংক্ষেপিত রূপ বা সোহাগ করে ডাকা, যাকে আরবীতে ‘তারখীম’ বলা হয়।

স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ ও প্রেম নিবেদনের উচ্চ মর্যাদা
অনেকে মনে করেন আমোদ-প্রমোদ কেবল সময়ের অপচয়, কিন্তু স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোকে ইসলাম ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন: “আল্লাহর জিকির বা স্মরণ ছাড়া অন্য সব কিছুই অনর্থক খেলাধুলা অথবা ভুল—কেবল চারটি কাজ ব্যতীত: দুই লক্ষ্যের মাঝে কোনো ব্যক্তির দৌড়ানো (তীরন্দাজী অনুশীলন), ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিজের স্ত্রীর সাথে আমোদ-প্রমোদ ও খুনসুটি করা এবং সাঁতার শেখা।” [তাবারানী; হাদীসটি হাসান]।
সুনানুন নাসাঈর সহীহ বর্ণনায় এসেছে, একজন মুসলিম পুরুষ যে সকল খেল-তামাশায় মগ্ন হয় তার সবই বাতিল বা অসার, কেবল তিনটি কাজ ব্যতীত—তীর নিক্ষেপ করা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজ স্ত্রীর সাথে প্রেম নিবেদন ও খুনসুটি করা! এই বিশেষ বিনোদনগুলো কতই না মহান! এগুলোর প্রতিটিই মুসলিম উম্মাহকে শক্তিশালী করে এবং এক প্রাণচঞ্চল লড়াকু প্রজন্ম তৈরিতে সহায়তা করে। স্ত্রীর সাথে সোহাগ ও আমোদ-প্রমোদ মূলত ভবিষ্যতের সৈনিকদের দ্রুত পৃথিবীতে আসার পথ সুগম করে।

দাম্পত্য মিলনের শিষ্টাচার ও বীর্যপাত সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান
‘তাজুল জামি‘ লিল উসূল’ গ্রন্থের লেখকের মতে—পরিবারের সাথে আমোদ-প্রমোদ ও মিলনের ক্ষেত্রে অনেক শিষ্টাচার রয়েছে। যেমন: স্ত্রীর প্রতি কোমল হওয়া এবং নিজের বীর্যপাতের পর স্ত্রীর পূর্ণ তৃপ্তি না পাওয়া পর্যন্ত

« <
/ 351
> »