অন্যদিকে খ্রিষ্টানরা ঋতুকালেও মিলন করা বৈধ মনে করত। ইসলাম এই অমানবিক কঠোরতা এবং নোংরা শিথিলতা—উভয়কেই বর্জন করেছে। ঋতুবতী নারী সম্পর্কে নবী (সা.) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন: “মিলন (সহবাস) ব্যতীত সবকিছুই তোমরা করতে পারবে।” অন্য বর্ণনায় আছে: “জিমাহ (যৌনাঙ্গ সঞ্চালন) ব্যতীত সবকিছুই বৈধ।” [সহীহ বুখারী ব্যতীত কুতুবে সিত্তাহর সকল কিতাবে বর্ণিত]।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সহধর্মিনীদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবী (সা.) যখন ঋতুকালীন অবস্থায় স্ত্রীর সান্নিধ্য পেতে চাইতেন, তখন তাঁর লজ্জাস্থানের ওপর একটি কাপড় দিয়ে দিতেন; অতঃপর তিনি যা ইচ্ছা (আদর-সোহাগ) করতেন। [সুনান আবী দাউদ ও নাসাঈ]। এটিই হলো ইসলামের সৌন্দর্য, যা নারীর শারীরিক কষ্টের সময়েও তাকে মানসিক একাকীত্ব থেকে রক্ষা করে এবং স্বামীর সাথে তার ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখে।
গোসলের সময় খুনসুটি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী মাসআলা
স্বামী-স্ত্রীর সখ্যতা কেবল শয়নকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পবিত্রতার মুহূর্তেও বিদ্যমান। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন— “আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম; আমাদের হাতগুলো বারবার একে অপরকে স্পর্শ করত! তিনি আমার আগে পানি নেওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি করতেন, তখন আমি বলতাম: ‘আমার জন্য একটু রাখুন, আমার জন্য একটু রাখুন’।” আয়েশা (রা.) বলেন, এ সময় আমরা উভয়েই জানাবাত (নাপাকি) অবস্থায় থাকতাম। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]।
এই সহীহ হাদীসটি থেকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসআলা জানতে পারি:
প্রথমত, স্পর্শ ও অযুর বিধান: স্ত্রীকে স্পর্শ করলে অযু ভেঙে যায় না। নবী (সা.) তাঁর স্ত্রীকে চুম্বন করে পুনরায় অযু না করেই নামাজ পড়ার হাদীসও বর্ণিত হয়েছে। অথচ এই বিষয়টি না জানার কারণে আমাদের সমাজে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। অনেকে মনে করেন সামান্য স্পর্শেই বুঝি অযু চলে গেল—যার কোনো শক্তিশালী দলিল নেই। কুরআনের আয়াতে ‘স্পর্শ করা’ বলতে মূলত সহবাস করাকে বোঝানো হয়েছে, যা ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ তিন ইমামের অভিমত।
ইমাম শাফি‘ঈ (রহ.) চমৎকার বলেছেন— “মুসলমানদের ঐকমত্য হলো, যখন কারো কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সুন্নত স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন অন্য কারো কথার খাতিরে তা বর্জন করা তার জন্য হালাল নয়।” ইমাম আহমাদ (রা.)-এর মতে, যে ব্যক্তি রাসূলের হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, সে মূলত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে! আজ অনেকে দলিলের চেয়ে মাযহাবী গোঁড়ামিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। অথচ আল্লামা
