তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

নবুওয়াতের এই হিকমত ও দূরদর্শিতা সত্যিই বিস্ময়কর! আধুনিক মনোবিজ্ঞানও লালা বিনিময়ের প্রভাব ও গুরুত্ব প্রমাণ করেছে। মনোবিজ্ঞানী ম্যারি স্টোপস হাওয়া-কন্যাদের (নারীদের) অবদমিত আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন:
“একজন পুরুষের উচিত তার অধর দিয়ে সঙ্গিনীর অধরকে আহ্বান করা। যদি স্ত্রী সাড়া দেয় এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে, তবে স্বামীর উচিত হবে কেবল ঠোঁটে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা মুখে ও গ্রীবায় সেই পরশ ছড়িয়ে দেওয়া। লালার এই বিনিময় যৌন উত্তেজনা ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধিতে এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কান, ঘাড় ও গ্রীবায় চুম্বনের মাধ্যমে এই সোহাগ ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

উম্মে যার‘-এর ঘটনা ও নববী প্রেম
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত— একদা এগারোজন নারী একত্রে বসে এই মর্মে অঙ্গীকার করল যে, তারা তাদের স্বামীদের সম্পর্কে কোনো তথ্যই গোপন করবে না…। তাদের মধ্যে অনেকেই স্বামীর কৃপণতা, দুর্ব্যবহার, সোহাগের অভাব এবং মিলনে অনীহার অভিযোগ করল—যা মূলত একজন নারীর দাম্পত্য জীবনের প্রধান চাওয়া!
সেই মজলিসের এগারোতম নারী (উম্মে যার‘) তাঁর স্বামীর প্রশংসা করতে গিয়ে যা বলেছিলেন তার সারকথা হলো— “আমার স্বামী ‘আবু যার‘’। তিনি আমাকে দারিদ্র্য ও কষ্টের জীবন থেকে প্রাচুর্যের জীবনে নিয়ে এসেছেন। তিনি আমার সেবায় দাস-দাসী নিয়োজিত করেছেন, ফলে আমি এখন নিশ্চিন্তে ও শান্তিতে ঘুমানিক পারি…।” এরপর তিনি আক্ষেপ করে বললেন— “একদিন আবু যার‘ বাইরে বের হয়ে এমন এক নারীকে দেখলেন যার দুই স্তনের নিচে দুটি শিশু ডালিমের মতো বল নিয়ে খেলা করছে। তিনি তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে আমাকে তালাক দিলেন এবং তাকে বিয়ে করলেন…।”
আয়েশা (রা.) বলেন: (এই দীর্ঘ গল্প শোনার পর) রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন:
“উম্মে যার‘-এর জন্য আবু যার‘ যেমন ছিলেন, আমিও তোমার জন্য তেমনই।” [সহীহ মুসলিম]
(৩) ব্যাখ্যা:
এটি মূলত সেই নারীর রূপ-লাবণ্য ও ভরা যৌবনের এক আলঙ্কারিক বর্ণনা। আর নবী (সা.)-এর উক্তির অর্থ হলো—তিনি আয়েশা (রা.)-কে আবু যার‘-এর মতোই ভালোবাসা ও প্রাচুর্য দেবেন, কিন্তু কখনোই তাঁর মতো বিচ্ছেদ বা তালাক দেবেন না।

ঋতুকালীন সময়েও প্রেম নিবেদন: ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা
দাম্পত্য জীবনে ঋতুকালীন সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইসলাম এই বিষয়ে ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের চরমপন্থার মাঝে এক সুন্দর ভারসাম্য বজায় রেখেছে। ইহুদীরা মনে করত ঋতুবতী নারীর সাথে এক ঘরে থাকাও হারাম;

« <
/ 351
> »