একটি সুখী পরিবারের ভিত্তিপ্রস্তর। জাবির (রা.)-এর বিবাহের প্রসঙ্গে নবীজী (সা.)-এর নির্দেশনাগুলো তারই প্রতিফলন।
সুনানুন নাসাঈর সহীহ বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) জাবির (রা.)-কে বললেন—
“সে তোমাকে দংশন করবে, আর তুমি তাকে!!”
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি কি বিয়ে করেছ?” আমি বললাম: ‘জি, এক বিধবাকে।’ তিনি বললেন: “কুমারী ও তাদের লাবণ্য তোমার ভাগ্যে জুটল না কেন?” আমি আরজ করলাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! (আমার পিতা) আবদুল্লাহ শহীদ হওয়ার সময় সাতটি (মতান্তরে নয়টি) কন্যা রেখে গেছেন। তাই আমি এমন একজনকে জীবনসঙ্গিনী করতে চেয়েছি যে তাদের দেখাশোনা করতে পারবে এবং তাদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে।’ তখন রাসূল (সা.) আমার জন্য দোয়া করলেন। [সুনান আরবাআ ও মুসনাদ আহমাদ; হাদীসটি সহীহ]
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) জাবির (রা.)-কে বললেন:
“তুমি কেন কোনো তরুণীকে বিয়ে করলে না, যার সাথে তুমি আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সাথে মেতে উঠত—অথবা তিনি বললেন: তুমি তাকে হাসাতে আর সেও তোমাকে হাসাত!”
(১) টীকা ও ব্যাখ্যা:
দংশনের গূঢ় রহস্য: আদর-সোহাগের সময় কামড় বা দংশনের গুরুত্ব বোঝাতে আরবী এক প্রবাদে বলা হয়েছে— “চিমটি কাটা হলো বিরক্তির লক্ষণ, তা রূপার নখ দিয়ে হলেও; আর কামড় দেওয়া হলো ভালোবাসার চিহ্ন, তা কুকুরের দাঁত দিয়ে হলেও!!” (অর্থাৎ ভালোবাসার আতিশয্যে কামড় দেওয়াও মধুর)।
লাবণ্য ও সোহাগ: ‘তাজুল জামি‘ লিল উসূল’ গ্রন্থে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় যা বলা হয়েছে তার সারকথা হলো—নবী (সা.) যখন জানতে পারলেন জাবির (রা.) বিধবা বিয়ে করেছেন, তখন তিনি বললেন: “কুমারী ও তাদের ‘লুয়াব’ (লাবণ্য/লালা) তোমার ভাগ্যে জুটল না কেন?” এখানে ‘লুয়াব’ বলতে মূলত মুখের লালাকে বোঝানো হয়েছে; যা সোহাগের সময় মুখ বা ঠোঁট চুম্বনের মাধ্যমে বিনিময় হয়।
দাম্পত্য সুখ ও সোহাগে ‘মুখের’ গুরুত্ব
আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কী করতেন? তিনি বললেন: “মেসওয়াক করতেন!” সম্ভবত নবী (সা.) তাঁর সহধর্মিনীকে উষ্ণ চুম্বনের মাধ্যমে গ্রহণ করার আগে নিজের মুখ পরিচ্ছন্ন করে নিতেন; যা দাম্পত্য সুখ বৃদ্ধি করে এবং জীবনের ক্লান্তি দূর করে। স্বামীর উচিত ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও একইভাবে ভালোবাসা বিনিময় করা, যাতে বিচ্ছেদের সময়ও উভয়ের মাঝে সেই হার্দিক টান অটুট থাকে।
