তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

স্বামী অত্যন্ত সুদর্শন ছিল। পুলিশের লোকটি বিস্মিত হয়ে এই কৃতকর্মের কারণ জিজ্ঞেস করলে মেয়েটি উত্তর দিল— “আমার স্বামী আমার উরু পর্যন্ত চেনে না! সে কোনো কথা বা আদর ছাড়াই সরাসরি মিলনে লিপ্ত হয় এবং কেবল নিজের তৃপ্তি মিটিয়েই উঠে যায়!”
অভিজ্ঞ উপদেষ্টারা বলেন: “সবচেয়ে বড় অক্ষমতা ও মূর্খতা হলো স্ত্রীকে আদর-সোহাগ ও আলাপচারিতার মাধ্যমে প্রস্তুত না করেই মিলনে লিপ্ত হওয়া। স্বামী যেন সাবধান থাকেন, যাতে নিজের প্রয়োজন মেটানোর আগে স্ত্রীর প্রয়োজন পূর্ণ হয়।”
মনোবিজ্ঞানী ম্যারি স্টোপস (Marie Stopes) বলেন: “বাসর রাতে কনের উচিত স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বামীর কাজে অংশগ্রহণ করা। এমনকি কুমারীত্ব মোচনের সময় তাকেই দিকনির্দেশনা দেওয়া উচিত; কারণ পর্দা যদি খুব শক্ত হয়, তবে ব্যথার অনুভূতিটি সে-ই সবচেয়ে ভালো অনুভব করতে পারে।”

প্রেম নিবেদন ও সোহাগের শিল্পকলা
দাম্পত্য মিলনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বুঝপড়া ও সক্রিয় অংশগ্রহণই হলো এর প্রাণ। যদি কেবল স্বামী একাই এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চান, তবে প্রবল কামোত্তোজনার মুহূর্তে তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন; ফলে তাঁর নববধূর শারীরিক যন্ত্রণা বা কষ্টের বিষয়টি হয়তো তাঁর উপলব্ধিতেই আসবে না। এতে স্ত্রীর মনে এমন একটি নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হতে পারে যে—স্বামী কেবল নিজের চাহিদাই বোঝেন, স্ত্রীর কষ্ট বা অস্বস্তির কোনো তোয়াক্কাই তিনি করেন না।
পক্ষান্তরে, স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে এই কার্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন—অর্থাৎ উভয়ের মাঝে যদি পারস্পরিক বুঝপড়া থাকে এবং যে পদ্ধতিতে দুজনেরই তৃপ্তি ও স্বস্তি মেলে তা অনুসরণ করা হয়—তবে শারীরিক ব্যথার অনুভূতি অনেক কমে যায়। ফলে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর মনে কোনো অনীহা বা বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয় না।
শারীরিক মিলনকে স্বাভাবিক, সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য স্ত্রীরও উচিত স্বামীর সাথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা, যাতে উভয়েই আনন্দের সেই পরম শিখরে পৌঁছাতে পারেন যা স্বামী প্রত্যাশা করেন এবং যা স্ত্রীরও প্রত্যাশা করা উচিত। এর জন্য স্ত্রীকে কেবল ‘নিষ্ক্রিয় সঙ্গী’ হয়ে থাকলে চলবে না; বরং তাঁকে আত্মিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে এই কার্যে পূর্ণরূপে বিলীন হতে হবে। নবদম্পতির এই পারস্পরিক টান, আকাঙ্ক্ষা এবং বুঝপড়া মিলনকে এক অনন্য মাধুর্য ও আকর্ষণ দান করে।
যদি স্ত্রী কেবল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে থাকেন—যেমনটি অনেক নারী এই সব ক্ষেত্রে ভেবে থাকেন—এবং স্বামীকে একাই এই যজ্ঞে ফেলে রাখেন,

« <
/ 351
> »