তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ও খুনসুটি করে; মানুষের তো আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া উচিত। পশুরা অন্তত মানুষের মতো এতটা মূর্খ নয় যে তারা প্রেম নিবেদন ছাড়া সরাসরি মিলনে লিপ্ত হবে।”
প্রচলিত একটি আরবী প্রবাদ রয়েছে— “দেখতে কদাকার হলেও যে স্বামী স্ত্রীর সাথে কৌতুক ও আদর করতে জানে, সে নিরস সুন্দর স্বামীর চেয়েও উত্তম।”
তাই স্বামীর দ্বিমুখী দায়িত্ব রয়েছে: তাকে স্ত্রীর অন্তরে প্রেমের জোয়ার আনতে হবে এবং তার মনকে এমনভাবে মোহিত করতে হবে যেন সে মিলনের জন্য পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়। নারীর প্রেম মূলত তার হৃদয় ও মস্তিষ্ক দ্বারা উদ্দীপিত হয়। একজন দক্ষ স্বামী কখনো স্ত্রীর আবেগ ও অনুভূতির দিকটি অবহেলে করেন না। এতে খোদ পুরুষেরও চরম স্বার্থ রয়েছে। কারণ যখন উভয় পক্ষের মাঝে অনুভূতির আদান-প্রদান ঘটে, তখন তৃপ্তি ও আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়।
পশু-পাখিদের প্রেম নিবেদন ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর ‘আল-আযকিয়া’ গ্রন্থে চড়ুই পাখির উদাহরণ দিয়ে লিখেছেন:
“পুরুষ চড়ুইটি ডাকাডাকি করে তার সঙ্গিনীকে আহ্বান জানায়। মাদী চড়ুইটি প্রথমে একটু ভাব দেখায়, তারপর সে নমনীয় হয়ে সাড়া দেয়। কখনও সে দূরে সরে যায়, আবার কখনও ধরা দেয়। এরপর তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করে এবং তাদের মাঝে চলে এক দীর্ঘ চুম্বনের খেলা…।”
সুতরাং অনেক স্বামীর উচিত এই পশু-পাখিদের কাছ থেকে দাম্পত্য শিষ্টাচার ও প্রেম নিবেদন শেখা!
‘উয়ুনুল আখবার’ গ্রন্থে (৪/৮০) বর্ণিত হয়েছে: হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো— “আমীর কি তাঁর স্ত্রীর সাথে রসিকতা করেন?” তিনি উত্তর দিলেন— “তোমরা কি আমাকে কেবল শয়তানই মনে করো? আল্লাহর কসম! আমি হয়তো আমার কোনো স্ত্রীর পায়ের পাতার নিচেও চুমু খেয়েছি!”
আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আত-তিজানী তাঁর ‘তুহফাতুল আরুস’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: প্রাচীনকালের জনৈক রাজা নারীবেষ্টিত থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি বারবার মিলনে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু তাঁর শরীরের পেশী ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বারবার মিলনের ধকল সইতে পারছিল না। তাই তিনি পারদ দিয়ে পূর্ণ একটি চৌবাচ্চা তৈরি করিয়েছিলেন এবং তার ওপর বিছানা পেতেছিলেন। পারদের সেই প্রাকৃতিক আন্দোলনের ফলে স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ সঞ্চালনটি অনায়াসে সম্পন্ন হতো এবং তিনি পূর্ণ তৃপ্তি পেতেন।

অবহেলা ও অজ্ঞতার করুণ পরিণতি
একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি একবার এক তরুণীকে ব্যভিচারের অভিযোগে ধরলেন। মেয়েটির

« <
/ 351
> »