সকল ভয় ও জড়তা দূর হবে, তখনই এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। [সূত্র: মিশরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘মুনকারাতুল আফরাহ’ রিসালা থেকে সংগৃহীত]
স্ত্রীর সাথে প্রেম নিবেদন ও মান-অভিমান: দাম্পত্যের এক অনন্য শিল্প
হাদীসের অন্য বর্ণনায় এসেছে: “কেন তুমি কোনো কুমারীকে বিয়ে করলে না, যে তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত আর তুমিও তার সাথে মেতে উঠতে?!”
(১) দাম্পত্য সুখের চাবিকাঠি:
স্ত্রীর সাথে আদর-সোহাগ, খুনসুটি ও প্রেম নিবেদন—দাম্পত্য জীবনের এক অপরিহার্য শিল্প। এর ওপরই নির্ভর করে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য সুখ। প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে ইসলামের মহানবী (সা.) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। বর্তমান যুগের মনোবিজ্ঞানও এই শিল্পের গুরুত্বকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ ‘ভ্যান ডি ভেল্ড’ (Van de Velde) তাঁর ‘আইডিয়াল ম্যারেজ’ (Ideal Marriage) গ্রন্থে লিখেছেন:
“একটি আদর্শ দাম্পত্য জীবনে স্বামী ও স্ত্রী—উভয়ের পক্ষ থেকেই যৌন মিলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই অংশগ্রহণের মূল শর্ত হলো—অধিকার এবং শারীরিক তৃপ্তি লাভের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা। পরিপূর্ণ যৌন তৃপ্তি লাভের জন্য মিলনের আগে দীর্ঘক্ষণ প্রেম নিবেদন বা ফোরপ্লে (Foreplay) একান্ত প্রয়োজন। যারা এটি অবহেলে করে, তারা স্ত্রীর বিরক্তি ও ঘৃণার উদ্রেক করে, এমনকি অনেক সময় এটি স্ত্রীর শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। মিলনের আগে আদর-সোহাগে অবহেলে করা মূলত বোকামি ও মূর্খতার লক্ষণ; কারণ এই প্রেম নিবেদন নিজেই এক বিশাল আনন্দের উৎস, যার তৃপ্তি মূল মিলনের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।”
এই প্রারম্ভিক পর্বে কথাবার্তা ও চাহনি এক বিশাল ভূমিকা পালন করে। কারণ এ সময় শরীর অপেক্ষা মন সাড়া দেওয়ার জন্য বেশি প্রস্তুত থাকে। বিষয়গুলো তুচ্ছ মনে হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সুগন্ধি ও সাজসজ্জার সাথে যৌন উত্তেজনার যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
‘প্রেম ও প্ররোচনা’ এবং যৌন মনোবিজ্ঞান
যৌন মনোবিজ্ঞানের এক বিশেষজ্ঞ ‘প্রেম ও প্ররোচনা’ শিরোনামে লিখেছেন:
“জেনে রাখুন, বিয়ের সময় স্ত্রীকে কেবল একবার বশ করা বা তুষ্ট করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিবার মিলনের সময় তাকে নতুন করে জয় করতে হবে, নতুন করে সোহাগ করতে হবে। কারণ প্রতিটি মিলনই হলো একটি করে ‘নতুন বিয়ে’! অবলা পশুরাও মিলনের আগে একে অপরের সাথে খেলাধুলা
