তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
এটি এমন এক কুপ্রথা যা গ্রাম-গঞ্জ ও শহর—সবখানেই মহামারি আকার ধারণ করেছে। আঙুলের মাধ্যমে কুমারীত্ব মোচনের এই দৃশ্য এতটাই লোমহর্ষক যে তা শুনলে শরীর শিউরে ওঠে এবং অনুভূতি থমকে যায়। এর ফলে যে মারাত্মক ক্ষতি হয় তা বর্ণনাতীত—এটি মূলত নারীর ইজ্জত ও আবরুর ওপর এক ধরণের পাশবিক আক্রমণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাহেল বা মূর্খ মহিলাদের ভাড়া করে এনে এই জঘন্য কাজ করানো হয়, যা নিরপরাধ নববধূর জন্য চরম লজ্জার ও অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কখনও কখনও আনাড়ি স্বামী নিজেই তার আঙুল দিয়ে সেই কোমল পর্দা ছিঁড়ে ফেলার নিষ্ঠুর চেষ্টা চালায়। সেই মুহূর্তে সেই অসহায় নববধূর মনের ওপর যে কী পরিমাণ আতঙ্ক, ভয় আর মানসিক আঘাতের পাহাড় ভেঙে পড়ে, তা কল্পনা করাও দুষ্কর।
তারা এই অপরাধটি কুমারীত্ব মোচনের জন্য করে না—কারণ মিলন তো কোনো কঠিন বা দুঃসাধ্য কাজ নয়। বরং তারা এটি করে কেবল কিছু রক্তের দাগ পাওয়ার জন্য, যা ইবলিস ও তার মানব রূপী শয়তান সহযোগীরা তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা এই তথাকথিত ‘রক্তের দাগ’ লোকসমাজে প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের ‘বংশীয় মর্যাদা’ জাহির করতে চায়।
অনেক সময় দেখা যায় যে, শারীরবৃত্তীয় কোনো কারণে (যেমন পর্দাটি অনেক ভেতরে হওয়া বা মিলন ছাড়াও অন্য কোনো কারণে পর্দা ফেটে যাওয়া) রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায় না। তখনই শুরু হয় সন্দেহ আর অপবাদ। নিরপরাধ মেয়েটিকে কলঙ্কিত করা হয়। কখনও কখনও নিজেদের ‘সম্মান’ বাঁচাতে তারা জাল রক্ত ব্যবহার করে কিংবা কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে জননাঙ্গ চিরে দেয়। নির্বোধেরা এটা বোঝে না যে, এভাবে জোর করে গোপন রাখা বিষয়গুলো কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ পেয়েই যায়। কবি কতই না সত্য বলেছেন:
“মানুষের চরিত্রে যদি কোনো লুকানো দোষ থাকে,
সে যতই ভাবুক তা গোপন—মানুষ ঠিকই তা জেনে ফেলে।”
শরয়ী ও সুন্দর সমাধান
এই সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান রয়েছে আমাদের উজ্জ্বল শরীয়ত এবং সায়্যিদুল মুরসালীন (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহর মাঝে। এটিই হলো আত্মার প্রশান্তি আর আরোগ্যের মহৌষধ। আর তা হলো—স্বামী তার স্ত্রীকে সময় দেবেন, উভয়ে একে অপরের সাথে পরিচিত হবেন, একে অপরের সান্নিধ্যে প্রশান্তি খুঁজে নেবেন। যখন তাদের মাঝে গভীর মমতা আর ভালোবাসা তৈরি হবে এবং মন থেকে

« <
/ 351
> »