তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ডক্টর ফ্রেডরিক কোহেন তাঁর ‘আওয়ার সেক্সুয়াল লাইফ’ গ্রন্থে লিখেছেন:
“স্ত্রীর অজ্ঞতা এবং স্বামীর অনভিজ্ঞতা জীবনের এই সংকটময় মুহূর্তে এমন কিছু বিয়োগান্তক ঘটনার জন্ম দিতে পারে, যা বাসরঘর থেকে সরাসরি মানসিক হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। উদাহরণস্বরূপ, অত্যন্ত নম্র ও সুশীল এক তরুণী—যাকে সবাই তার সচ্চরিত্রের জন্য ভালোবাসত—নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের বাস্তব দিকগুলো সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তার পরিবার বা বাগদত্তাও তাকে এ বিষয়ে সচেতন করার প্রয়োজন বোধ করেনি। বাসর রাতে যখন তার স্বামী মিলনের প্রস্তাব দিল, মেয়েটি একে একটি ‘লজ্জাজনক কাজ’ মনে করে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করল এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল। অন্যদিকে, স্বামীটিও যেন এক পশুর মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল—যাকে সে তার ‘শরয়ী অধিকার’ মনে করছিল। এতে মেয়েটি প্রচণ্ড আতঙ্কিত ও রাগান্বিত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করল। হোটেলের কর্মীরা ছুটে এসে কোনো ডাক্তার ডাকার পরিবর্তে পুলিশে খবর দিল। পুলিশ তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দিল।”
যৌনক্রিয়ার প্রতি এই ভীতির অনেক কারণ থাকতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হলো—যৌবনের শুরুতে অনভিজ্ঞতা বা যৌনতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার কারণে সৃষ্ট পুরুষত্বহীনতার ভয়। নারীদের ক্ষেত্রেও অনভিজ্ঞতা ও ভীতি একই রকম কাজ করে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা এই ভীতি দূর করার জন্য অনেক সময় রোগীকে চিড়িয়াখানা বা খামার পরিদর্শনের পরামর্শ দেন; যাতে তারা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যৌন আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। সেখানে দেখা যায়, নারী ও পুরুষ উভয় প্রাণীই অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং তীব্র কামনাবাসনা নিয়ে মিলনে লিপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে মাদী প্রাণীটি পূর্ণ আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পুরুষের সাথে মিলিত হয়—যা মূলত আল্লাহ প্রদত্ত বংশরক্ষার এক চিরায়ত প্রবৃত্তি।
কুমারীত্ব মোচন ও সামাজিক কুপ্রথা থেকে সতর্কতা
বাসর রাতে কুমারীত্ব মোচনের প্রসঙ্গে এটি উল্লেখ করা জরুরি যে, অনেক স্বামী প্রথম রাতে বা প্রথম কয়েক রাতে সফল হতে পারেন না। চরম উত্তেজনা বা পর্দার দৃঢ়তার কারণে এমনটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই অবস্থায় বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের উচিত নয় বিষয়টিকে বড় করে দেখা বা বিদ্রূপ করা। কারণ অন্যের ঠাট্টা-তামাশা বা নিজের মনের ভেতর ‘আমি অক্ষম’—এই ধারণা গেঁথে গেলে পুরুষটি চিরস্থায়ীভাবে ধ্বজভঙ্গ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, সফল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিজের ওপর এই বিশ্বাস

« <
/ 351
> »