তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

হলো প্রথম রাত। স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই এই রাতটিকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ও আশা লালন করে। তাই এই রাতের আচরণ হতে হবে অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধানী।” ফরাসি সাহিত্যিক বালজাক-এর একটি উক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য:
“ধর্ষণ দিয়ে তোমার জীবন শুরু কোরো না!”
বাসর রাতের আচরণের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত এই বাক্যটিই।
এই রাতে একজন নববধূর মনে তার সম্পূর্ণ অপরিচিত স্বামী এবং নতুন জীবন নিয়ে প্রচণ্ড ভয় ও জড়তা কাজ করে। একজন বিচক্ষণ স্বামী তিনিই, যিনি এই শঙ্কিত মন ও অস্থির হৃদয়ের যথাযথ কদর করেন এবং তাকে পরম মমতা ও কোমলতায় গ্রহণ করেন।
অনেক স্বামী দুটি মারাত্মক ভুল করেন:
১. প্রথম রাতেই যে কোনো উপায়ে কুমারীত্ব হরণ করাকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য মনে করেন।
২. তারা আশা করেন যে স্ত্রী কোনো প্রকার ভূমিকা বা প্রস্তুতি ছাড়াই বিষয়টিকে মেনে নেবে এবং সায় দেবে।
কেউ হয়তো একে ‘পুরুষত্ব’ মনে করতে পারেন, কিন্তু ইসলাম শিক্ষা দেয় যে—মানুষ এমনকি পশুপাখির প্রতি ‘রফিক’ বা কোমল হওয়াও প্রকৃত পুরুষত্বের অংশ। কোনো রকম মানসিক প্রস্তুতি বা প্রেম নিবেদন ছাড়া একজন নারীর জন্য তার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ (সতীত্ব) বিসর্জন দেওয়া তার প্রকৃতির পরিপন্থী।
এই রাতে স্বামী-স্ত্রীর আলাপচারিতা কতই না মধুর হওয়া উচিত! সুখী দাম্পত্যের স্বপ্ন, সুন্দর জীবনের সংকল্প এবং এই পবিত্র সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলুন। আপনার ভালোবাসার কথা জানান, তার রূপ ও গুণের প্রশংসা করুন। তাড়াহুড়ো করে সরাসরি যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হবেন না।
একটি শিক্ষণীয় ঘটনা:
ইমাম ইবনে হাজম (রহ.) তাঁর ‘ত্বাউকুল হামামাহ’ গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এক ব্যক্তি এক নারীকে ভালোবেসে বিয়ে করল। বাসর রাতে সে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো ও অস্থিরতা প্রকাশ করল। মেয়েটি তার স্বামীর উত্তেজিত ও রূঢ় আচরণ দেখে এতটাই আতঙ্কিত হলো যে, সে এক দৌড়ে পালিয়ে গেল এবং আমৃত্যু আর কখনোই সেই স্বামীর কাছে ফেরেনি। এভাবেই কেবল সাময়িক উত্তেজনার বশে তাড়াহুড়ো করার কারণে একটি পবিত্র সম্পর্কের বাঁধন চিরতরে ছিঁড়ে গেল। অথচ স্বামীটি যদি ধৈর্য ধরতেন এবং স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে ধীরেসুস্থে এগোতেন, তবে তার জীবন সুখী হতে পারত।

বাসর রাতের মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও সঠিক সমাধান
দাম্পত্য জীবনের শুরুতে অজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতা অনেক সময় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

« <
/ 351
> »