হ্যাঁ।”
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “কুমারী (বকর) নাকি বিধবা (ছায়্যিব)?”
আমি বললাম: “বিধবা।”
নবী (সা.) বললেন: “তবে কেন তুমি কোনো কুমারীকে বিয়ে করলে না, যে তোমার সঙ্গে আমোদ-প্রমোদ করত আর তুমিও তার সঙ্গে মেতে উঠতে?!” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
(১) টীকা ও হিকমত:
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) কেন বিধবার চেয়ে কুমারীকে প্রাধান্য দিলেন, অথচ একবার মিলনের পরই তো কুমারীত্ব ঘুচে যায়? এর উত্তরে দুটি বিষয় বলা হয়েছে:
প্রথমত: কুমারীর সাথে মিলনের মাহাত্ম্য হলো—সে এর আগে অন্য কারো স্বাদ পায়নি, ফলে প্রথম স্বামী হিসেবে তার প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও আকর্ষণ নারীর অন্তরে গেঁথে যায়। এটি দাম্পত্য জীবনে স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। স্বামীর কাছে সে যেন এমন এক সজীব উদ্যান, যেখানে আগে কেউ বিচরণ করেনি। আল্লাহ তাআলা এই অর্থটির দিকে ইঙ্গিত করেই জান্নাতী নারীদের সম্পর্কে বলেছেন— “যাদেরকে ইতিপূর্বে কোনো মানুষ বা জীন স্পর্শ করেনি।” [সূরাহ আর-রাহমান: ৫৬]। পরবর্তীতে কুমারীত্ব না থাকলেও সেই শুরুর নিবিড় অনুভূতির স্বাদ অম্লান থাকে।
দ্বিতীয়ত: হাদীসে এসেছে— “জান্নাতী পুরুষরা যখনই তাদের স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে, তারা পুনরায় কুমারী হয়ে যাবে।” [তাবারানী, রওজাতুল মুহিব্বীন, পৃষ্ঠা ২৪২]
আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছুটা গর্ববোধ করতেন; কারণ তিনি ব্যতীত নবী (সা.) আর কোনো কুমারীকে বিয়ে করেননি। তিনি রূপক ছলে বলতেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এমন এক উপত্যকায় নামেন যেখানে অনেক গাছ রয়েছে—যার কোনোটির ফল আগে খাওয়া হয়েছে আর কোনোটি অক্ষত; তবে আপনি আপনার উটকে কোন গাছে চরাবেন?!” রাসূল (সা.) উত্তর দিলেন: “অবশ্যই সেই গাছে যার ফল কেউ আগে খায়নি!” [সহীহ বুখারী]
কিছু আসারে (উক্তি) এসেছে: “তোমরা কুমারীদের বিয়ে করো; কারণ তাদের মুখ মিষ্ট, তারা অধিক সন্তান দানে সক্ষম, তাদের গর্ভাশয় উষ্ণ এবং তারা প্রতারণা ও ছলচাতুরী কম জানে। অধিকন্তু তারা সামান্য ভরণপোষণেই তুষ্ট থাকে।”
তবে কুমারীর গুণের পাশাপাশি বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীরও বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে; তাদের অভিজ্ঞতা ও স্বামীর যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিপক্কতা থাকে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেছেন— “যদি তিনি (নবী) তোমাদের তালাক দেন, তবে তাঁর প্রতিপালক তাকে তোমাদের পরিবর্তে এমন স্ত্রী দান করবেন যারা তোমাদের চেয়ে উত্তম হবে—যারা আত্মসমর্পণকারী, মুমিন, অনুগত,
