অসুস্থ হয়ে পড়লেন। কিন্তু তাঁর এই অসুস্থতা ছিল মূলত প্রেমের বিরহ (মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লানত!)। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম আল-কুরশীয়র স্ত্রী যয়নাব বিনতু ইসহাককে ভালোবাসতেন। ইয়াযীদের বোন রামলা যখন বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর ভাইকে আশ্বস্ত করলেন এবং বিষয়টি তাঁর পিতার কাছে উত্থাপন করলেন। মু‘আবিয়াহ নাকি মেয়ের ওপর সব ছেড়ে দিলেন এবং রামলা যা চাইলেন তাতেই সায় দিলেন।
অতঃপর মু‘আবিয়াহ আবদুল্লাহ ইবনে সালামের কাছে দূত পাঠিয়ে খবর দিলেন যে, তাঁর এক কন্যা রয়েছে যাকে তিনি বিয়ে দিতে চান; আর আবদুল্লাহর দ্বীনদারী ও আভিজাত্যের কারণে তিনি তাকেই পাত্র হিসেবে পছন্দ করেছেন। এই লোভনীয় প্রস্তাব পেয়ে আবদুল্লাহ অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে মু‘আবিয়াহর দরবারে হাজির হলেন। মু‘আবিয়াহ পর্দার আড়াল থেকে মেয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন যেন আবদুল্লাহ তা শুনতে পান। রামলা উত্তর দিলেন— “পিতা যাকে পছন্দ করেছেন তাতে আমার দ্বিমত নেই, তবে আমি সতীন নিয়ে সংসার করতে পারব না। বিশেষ করে আবদুল্লাহর স্ত্রী যয়নাব আরবের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের একজন!” এ কথা শুনে আবদুল্লাহ মু‘আবিয়াহ ও তাঁর মেয়েকে আশ্বস্ত করলেন যে, তিনি যয়নাবকে তালাক দিয়ে দেবেন… এবং বিষয়টি সেখানেই চূড়ান্ত হলো।
যয়নাবের ইদ্দতকাল অতিবাহিত হলো এবং তিনি ‘বাইনুনাহ কুবরা’ বা চূড়ান্ত বিচ্ছেদের শিকার হলেন, যার ফলে অন্য কারো সাথে বিয়ে হওয়া ছাড়া পুনরায় আবদুল্লাহর জন্য তাঁকে গ্রহণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ল। ঠিক এই পর্যায়ে এসে রামলা আবদুল্লাহকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানালেন। তিনি অজুহাত দিলেন যে— “যে লোক কেবল মু‘আবিয়াহর মেয়ের প্রত্যাশায় নিজের এমন রূপবতী, গুণবতী ও অনুগত স্ত্রীকে এভাবে অন্যায়ভাবে তালাক দিতে পারে, তার সাথে সংসার করা নিরাপদ নয়।”
এরপর মু‘আবিয়াহর পক্ষ থেকে ইয়াযীদের জন্য যয়নাবের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হলো। হোসেন ইবনে আলী (রা.) যখন এই চক্রান্তের কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি মু‘আবিয়াহর দূতের মাধ্যমে নিজের পক্ষ থেকেও যয়নাবের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং সিদ্ধান্ত যয়নাবের ওপর ছেড়ে দিলেন। যয়নাব উত্তর দিলেন— “আমি হোসেনের ওপর কাউকে প্রাধান্য দেব না; তিনি তো রাসূলের সুগন্ধি ফুল এবং জান্নাতের যুবকদের সর্দার।” মু‘আবিয়াহ এই খবর শুনে রাগান্বিত হয়ে বললেন:
“সুখে থাকো হে উম্মে খালিদ!
পরিশ্রম করল একজন, আর ফল ভোগ করল অন্যজন!”
তবে হোসেন (রা.) যয়নাবকে
