তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

আমানতের নামে কসম খায় সে আমাদের দলভুক্ত নয়; আর যে ব্যক্তি কোনো স্বামীর বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর মন বিষিয়ে তোলে, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।” [মুসনাদ আহমাদ ও সহীহ ইবনে হিব্বান; হাদীসটি সহীহ]
ইতিহাসের কয়েকটি শিক্ষণীয় ঘটনা
১. বনী ইসরাঈলের সেই রূপবতী নারী ও জালিম শাসক:
বনী ইসরাঈলের এক ইবাদতগুজার কৃষক ছিল। তার স্ত্রী ছিল বনী ইসরাঈলের শ্রেষ্ঠ সুন্দরীদের একজন। সেই সময়ের এক স্বৈরাচারী শাসক ওই নারীর সৌন্দর্যের কথা জানতে পেরে জনৈক বৃদ্ধাকে তার কাছে পাঠাল। শাসক তাকে নির্দেশ দিল যেন সে স্বামীর বিরুদ্ধে ওই নারীর মন বিষিয়ে তোলে। বৃদ্ধা সেই নারীর কাছে গিয়ে বলতে লাগল— ‘তুমি কি এই সাধারণ কৃষকের ঘরে পড়ে থাকতে রাজি? তুমি যদি আমার শাসকের কাছে আসতে তবে তিনি তোমাকে স্বর্ণে মুড়িয়ে দিতেন, রেশমের পোশাকে সাজাতেন এবং তোমার সেবায় দাস-দাসী নিয়োগ করতেন।’
এই প্ররোচনা যখন নারীর কানে পৌঁছাল, তখন সে তার স্বামীর সাথে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করল। স্বামী নিরুপায় হয়ে তাকে তালাক দিলেন এবং সেই শাসক তাকে বিয়ে করল। কিন্তু আল্লাহর কুদরত দেখুন! বাসর রাতে যখন শাসক তার কাছে গেল, তখনই তারা উভয়েই অন্ধ হয়ে গেল! শাসক ও নারীর হাত অবশ হয়ে গেল, তারা কালা ও বোবা হয়ে গেল এবং তাদের ভেতর থেকে যৌনকামনা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেল। বনী ইসরাঈলের নবীর দোয়ার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা বললেন: “আমি তাদের কখনোই ক্ষমা করব না! তারা কি ভেবেছিল যে, ওই অসহায় কৃষকের সাথে তারা যা করেছে তা আমার চোখের আড়ালে ছিল?!”
২. আবূ মুসলিম আল-খাওলানী (রহ.)-এর স্ত্রীর ঘটনা:
আবূ মুসলিম (রহ.) যখন ঘরে ফিরতেন, তাঁর স্ত্রী পরম যত্নে তাঁর সেবা করতেন। একদিন তিনি ঘরে ফিরে দেখলেন তাঁর স্ত্রী বিমর্ষ হয়ে নিচু হয়ে বসে আছেন। এক প্ররোচনাকারী নারী এসে তাঁর স্ত্রীকে প্ররোচনা দিয়েছিল যেন তিনি আমীর মুয়াবিয়ার দরবার থেকে দাস-দাসী ও সম্পদ চেয়ে নেন। আবূ মুসলিম (রহ.) তখন বদদোয়া করে বললেন— ‘হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার স্ত্রীর মন বিষিয়ে দিয়েছে, তাকে আপনি শাস্তি দিন।’ সাথে সাথে সেই প্ররোচনাকারী নারীটি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলল। পরে সে নিজের অপরাধ বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলে আবূ মুসলিমের দোয়ায় আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন।
৩. বসরা নগরীর এক

« <
/ 351
> »