তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সেই ব্যক্তির ওপর যে হিল্লা করে এবং যার জন্য হিল্লা করা হয়!!” [সুনানুন নাসাঈ ও তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন]

তালাকের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও শরয়ী পরামর্শ
স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক হওয়ার উপক্রম হলে স্বামী-স্ত্রীর উচিত (মনগড়া সিদ্ধান্ত না নিয়ে) শরয়ী কাজীর শরণাপন্ন হওয়া। সেই সব ভণ্ড ও প্রতারকদের কথায় কান দেওয়া উচিত নয় যারা তুচ্ছ কারণে তালাক হয়ে যাওয়ার ফতোয়া দেয়!!
মনে রাখা আবশ্যক যে:
মাতাল এবং প্রচণ্ড রাগান্বিত অবস্থায় (যখন মানুষের বিবেক লোপ পায়) দেওয়া তালাক কার্যকর হয় না। কারণ নবী (সা.) বলেছেন: “ইগলাক্ব (বিবেক রুদ্ধ হওয়া) অবস্থায় কোনো তালাক নেই।” এছাড়া একসাথে তিন তালাক দিলে তা এক তালাক হিসেবেই গণ্য হয়।
স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনের প্রতি স্বামীর শিষ্টাচার
ইসলামী সমাজব্যবস্থায় স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের মাঝে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আলী ইবনে আবী তালিব (রা.)-এর একটি ঘটনা থেকে এর চমৎকার শিক্ষা পাওয়া যায়। তিনি বর্ণনা করেছেন—
আমি ছিলাম এমন একজন ব্যক্তি যার প্রচুর ‘মযী’ নির্গত হতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আমার বৈবৈাহিক সম্পর্কের কারণে (অর্থাৎ তাঁর কন্যার স্বামী হওয়ায়) তাঁকে এ বিষয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে আমি লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদ (রা.)-কে অনুরোধ করলাম এবং তিনি নবী (সা.)-কে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলেন। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
হাদীসের টীকা:
১. ‘মযী’ কী? এটি হলো এক প্রকার পাতলা সাদা পিচ্ছিল তরল যা স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা বা চুম্বনের সময় নির্গত হয়। এতে অযু ভেঙে যায়, তবে গোসল ওয়াজিব হয় না।
২. ইমাম নববী (রহ.)-এর সারগর্ভ মন্তব্য: তিনি বলেন— “জেনে রাখা উচিত যে, স্বামীর জন্য এটি মুস্তাহাব বা উত্তম হলো—স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনের সামনে এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ না করা যাতে নারীদের ঘনিষ্ঠতা, তাঁদের চুম্বন বা আলিঙ্গন কিংবা এই জাতীয় কোনো যৌনাচারের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বা যা থেকে এমন কিছু বুঝে নেওয়া যায়।” তিনি একথার সপক্ষে আলী (রা.)-এর উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

স্ত্রীর মন বিষিয়ে তোলার ভয়াবহ পরিণাম
দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি করা বা কোনো নারীর মনকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে বিষিয়ে তোলা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। নবী (সা.) এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:
“যে ব্যক্তি

« <
/ 351
> »