তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

করেছি। কিন্তু তার কাছে কাপড়ের আঁচলের মতো (শিথিল বস্তু) ছাড়া আর কিছুই নেই!!”
নবী (সা.) তাঁর এই অকপট বর্ণনায় মৃদু হেসে বললেন:
“তুমি কি রিফা‘আর কাছে ফিরে যেতে চাও? না, তা সম্ভব নয়; যতক্ষণ না তুমি তার (দ্বিতীয় স্বামীর) মধুর স্বাদ গ্রহণ করো এবং সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করে।” [সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য]
টীকা ও ব্যাখ্যা:
১. সক্ষমতাহীনতা: ‘কাপড়ের আঁচলের মতো’ বলতে এখানে দ্বিতীয় স্বামীর সহবাস করার সক্ষমতা না থাকাকে বোঝানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে যুহাইর ইবনে মিসকীন আল-ফিহরীর উদাহরণ টানা যায়। তিনি জনৈক তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু তাকে সন্তুষ্ট করার সামর্থ্য তাঁর ছিল না। বাসর রাতে সে যখন যুহাইরের সান্নিধ্য পেল, তখন তাকে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো অবস্থায় পেল না। ফলে সে চলে গেল এবং আর ফিরে আসেনি। এ প্রসঙ্গে যুহাইর অনেক কবিতা লিখেছেন, যার একটি হলো:
“হাজারো চুম্বনের পর সে আমায় সুধাল—
‘চুম্বন ছাড়া কি আর কিছুই নেই তোমার কাছে?’
থামো এবার! আমি তাকে বললাম— ‘হৃদয়ে তো ভালোবাসা জমে আছে,
আর চোখের জল তো আছেই প্রিয়তমার তরে।’
সে বলল— ‘আল্লাহর কসম! সেই প্রেমে নেই কোনো বীরত্ব,
যেখানে কাজের সাথে কথার নেই কোনো মিল ও গুরুত্ব’।”
২. মধুর স্বাদ: এখানে ‘উসাইলাহ’ ও ‘আসসালাহ’ শব্দ দুটি মিলনের সামান্য আস্বাদনের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেই স্বাদকে মধুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। [হুসনুল উসওয়াহ]

চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ও বিবর্তিত ‘হিল্লা’ প্রথার নিন্দা
এই হাদীসটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, তা হলো ‘তালাকে বায়েন’ (চূড়ান্ত বিচ্ছেদ)। যদি তিন মাসে তিনটি পৃথক তালাকের মাধ্যমে এবং যথাযথ শর্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে যায়, তবে সেই নারী আর সরাসরি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরতে পারেন না। এমতাবস্থায় যদি সেই নারী অন্য কাউকে বিয়ে করেন এবং ঘটনাক্রমে সেই দ্বিতীয় স্বামীও তাঁকে তালাক দেন, তবেই কেবল তিনি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার অধিকার লাভ করেন। এর ফলে সম্ভবত স্বামী বা স্ত্রী—উভয়ের চরিত্রে কোনো পরিবর্তন এলেও আসতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি বর্তমানে প্রচলিত ‘চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী হিল্লা বিয়ে’র মতো নয়।
ইসলাম এই সাজানো বা চুক্তিভিত্তিক বিয়েকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। নবী (সা.) বলেছেন:
“আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন

« <
/ 351
> »