ও সামাজিক ফিতনা
১. নিজস্ব গোসলখানার প্রয়োজনীয়তা: আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে শহরের প্রায় প্রতিটি ঘরেই নিজস্ব গোসলখানা রয়েছে। এক সময় ঘরে গোসলখানা না থাকা ছিল অজ্ঞতা ও গাফিলতির প্রমাণ। তবে গ্রামের অনেক বাড়িতে এখনও আলাদা গোসলখানা নেই; সম্ভবত এই হাদীসগুলো পুরুষদের দ্রুত নিজ গৃহে গোসলখানা তৈরিতে উৎসাহিত করবে। নারীরা যখন বাইরের পাবলিক হাম্মাম বা ঘাটে গোসল করতে যায়, তখন যে কত ধরণের ফিতনা ও অনিষ্টের সৃষ্টি হয়—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি কোনো কোনো দুশ্চরিত্রা নারী বাইরে গোসলে যাওয়ার বাহানায় নানাবিধ অপরাধমূলক ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।
২. অজ্ঞতা ও অপব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত: কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এক ব্যভিচারিণী নারী তার ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক সময় শেষ হওয়ার পর কিছুদিন পরপরই স্বামীকে বলত— ‘আমার আবার রক্ত দেখা দিয়েছে, আমাকে বাইরে হাম্মামে গোসল করতে যাওয়ার অনুমতি দাও।’ স্বামী তাকে অনুমতি দিত আর সে সেই সুযোগে পাপে লিপ্ত হতো। অথচ সেই স্বামী যদি ঋতুস্রাব বিষয়ক জ্ঞান রাখতেন, তবে তিনি জানতেন যে—স্বাভাবিক সময়ের পর যা দেখা যায় তা হলো ‘ইস্তিহাযা’ (রক্তপ্রদর), যার জন্য (যৌন মিলন না করলে) গোসল ওয়াজিব হয় না!
৩. দর্জিবাড়ি ও ট্রায়াল রুমের সতর্কতা: বর্তমান যুগের কিছু দুশ্চরিত্র দর্জি (নারী বা পুরুষ) কোনো না কোনো কৌশলে পোশাক ট্রায়াল বা মাপ নেওয়ার সময় নারীদের ছবি তুলে রাখে। পরবর্তীতে এই সব আপত্তিকর ছবি দিয়ে তাদের ব্লাকমেইল করে এবং তাদের সতীত্ব হরণের অপচেষ্টা চালায়। অথচ প্রাচীন ইসলামী রীতি ছিল—দরজিনেরাই (মহিলা দর্জি) ঘরে এসে কাজ করে দিয়ে যেত। এই হাদীস ও নির্দেশনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নারীর পর্দা কেবল একটি পোশাক নয়, বরং এটি তার সুরক্ষা ও সম্মানের দুর্গ।
অকপটতা… এবং সত্য
ইসলামী শরীয়াহ যেমন দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তাকে সম্মান করে, তেমনি বিচার ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সত্য ও অকপটতাকে উৎসাহিত করে। রিফা‘আ আল-কুরযীর স্ত্রীর এই ঘটনাটি সাহাবীগণের সত্যবাদিতা এবং নবীজী (সা.)-এর প্রজ্ঞার এক অনন্য নিদর্শন।
রিফা‘আ আল-কুরযীর স্ত্রীর ঘটনা ও নববী সমাধান
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত— রিফা‘আ আল-কুরযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বললেন:
“আমি রিফা‘আর স্ত্রী ছিলাম; সে আমাকে তালাক দিয়েছে এবং তা ‘তালাকে বাত্তাহ’ (চূড়ান্ত বিচ্ছেদ) ছিল। এরপর আমি আবদুর রহমান ইবনুয যুবাইরকে বিয়ে
